![]() ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ
৩ November ২০২৬ Tuesday ৩:৩৬:৫৩ PM
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ![]() পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁক দিয়ে চিকিৎসার দেওয়ার নামে অসুস্থ এক কিশোরীর সঙ্গে প্রতারণা, বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক এবং অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে তাইজুল ইসলাম মুসা নামে কথিত এক কবিরাজের বিরুদ্ধে। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরী ও তার মাকে হয়রানি এবং ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে। তবে প্রায় দুই মাস কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ে না করার কথা জানিয়েছেন তাইজুল ইসলাম মুসা। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেন তিনি। এ ঘটনায় কিশোরীর সৎ বাবা (৩১ অক্টোবর) কলাপাড়া থানায় নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করলে ২ নভেম্বর বিষয়টি জানাজানি হয়। অভিযোগে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে প্রধান অভিযুক্ত করে, সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউপির মনসাতলীর বাসিন্দা। তিনি ঝাড়ফুঁকের কবিরাজি চিকিৎসক নামে পরিচিত। অভিযোগে জানা যায়, ওই কিশোরীর সৎ বাবা তার কর্মস্থলের কারণে বরিশালের রূপাতলীতে বসবাস করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদীনাবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তবে রিয়াজের প্রথম স্ত্রীর সন্তান ওই কিশোরী। তবে রিয়াজও মাঝেমধ্যে ওই ভাড়া বাসায় এসে থাকতেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরী অসুস্থ থাকায় তার পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করে আসছিল। এরমধ্যে পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর চিকিৎসার নামে তাইজুল নানা কৌশলে কিশোরীকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একইসঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অসংখ্য দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে রাখেন মুসা। পরে ধারণকৃত ওই ভিডিও ব্যবহার করে কিশোরীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন তিনি। একপর্যায়ে কিশোরী বিয়ের বিষয়ে বললে অভিযুক্তরা ভিডিওগুলো মোবাইল থেকে পেনড্রাইভে নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি প্রদান করেন। এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে কিশোরী ও তার মাকে বিষয়টি চেপে যেতে হুমকি প্রদানসহ নানা ভয়ভীতি দেখানো হয়। এছাড়াও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এতে ওই পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন কিশোরীর বাবা। এদিকে একাধিক স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, মুসা হুজুরের বিরুদ্ধে অসংখ্য নারীর সঙ্গে এমন কর্মকাণ্ডের ঘটনা রয়েছে। তাদের দাবি, হুজুর মুসা তদবির দেওয়ার সময় কোনো নারীর দিকে তাকালে তাকে বশ করে ফেলেন এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তবে তার এই ঝাড়ফুঁকের আড়ালে তিনি ভয়ংকর নারীলিপ্সুক বলেও অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে কবিরাজ মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে সামনে এসে যোগাযোগ করবেন বলে ফোন কেটে দেন। কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই হুজুরের বিরুদ্ধে তার তৃতীয় স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া কিশোরীর মায়ের সঙ্গেও কিছু আপত্তিকর দৃশ্য আমাদের হাতে এসেছে। আমরা সেগুলোও যাচাই-বাছাই করছি যে পুরুষ লোকটি মুসা কিনা। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

