|

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ
বামনায় ক্ষমতাসীন নেতাদের নিয়োগ বানিজ্য
আমাদেরবরিশাল.কম
১২ February ২০১৩ Tuesday ৬:৫৫:৫২ PM
বামনা:: বরগুনার বামনায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৃজিত দপ্তরী কাম প্রহরী পদে জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ এবং অর্থের বিনিময় প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে জনবল নিয়োগে নানা অনিয়মের লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে দাখিল করেছে ভূক্তভোগী এলাকাবাসি।
এসব অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, বেশীর ভাগ বিদ্যালয় গুলোতে ক্ষমতাসীন সরকারী দলের নেতাদের পছন্দের প্রার্থীদের অগ্রাধীকার দেওয়া সহ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
জানাগেছে, প্রথম পর্যায়ে বামনা উপজেলায় ৩৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২টিতে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অনিয়ম সহ নানা জটিলতায় আটকে গেছে ৪টি বিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রম।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে ওই নিয়োগ কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনিত একজন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি প্রতিটি স্কুলে এই নিয়োগ প্রত্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই নিয়োগের অনুমোদন করবেন।
নিয়োগ দেওয়া ৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে খোলপটুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, খোলপটুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী পদে নিয়োগ পাওয়া রফিকুল ইসলামের বাড়ি নির্মানাধীন ইয়াসীন নজীব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার হলেও কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের বিনিময় ওই বিদ্যালয়ে তাকে নিয়োগ প্রদান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এব্যপারে খোলপটুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন মোল্লা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার চাপের মুখে রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ প্রদান করতে বাধ্য হয়েছি। পরে জানতে পারি প্রধান শিক্ষক ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা প্রার্থী মো. রফিকুলের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
এব্যাপারে খোলপটুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান বলেন, নিয়োগ কমিটির সভাপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ প্রদান করেছে। আমি কোন আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত নই।
এছাড়া একটি অভিযোগে জানাযায়, বুকাবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামীকে দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে এবং ওই প্রার্থীর জন্ম তারিখ গড়মিল রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয় পত্রে দুই ধরনের তারিখ রয়েছে।
বামনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার গোলাম সত্তার বলেন, ডৌয়াতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর কাছ থেকে অবৈধ ভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও অন্য ক্যাচমেন্ট এলাকার প্রার্থীকে বাছাই করে অনুমোদনের জন্য উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কাছে পাঠান। বিষয়টি আমি জানতে পেরে ওই প্রার্থীর অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করি। ফলে ওই বিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার নির্দেশে বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. হায়দার আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই পদে আর্থিক লেন দেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নীতিমালার বাইরে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মোট ৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দফায় ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে অনুমোদনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি স্কুলের জনবল নিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে । কি কারনে বাকী চারটি পদে নিয়োগ এখনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি তা আমার জানা নেই।
বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিয়োগ অনুমোদনকারী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, যে সকল বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ এসেছে সে গুলোর কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।
সম্পাদনা: ডিভিশনাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
|
|