" />
AmaderBarisal.com Logo

মুলাদী পৌরসভায় পে-অর্ডার জালিয়াতীর ঘটনা ধামাচাপা


আমাদেরবরিশাল.কম

৯ April ২০১৩ Tuesday ১০:০৬:৩১ AM

Barisal Map বরিশাল মানচিত্রবরিশাল :: মুলাদী পৌরসভায় ৫০ লাখ টাকার ভুয়া পে-অর্ডার জমা দিয়ে ১ কোটি ৩ হাজার টাকায় বন্দর বাজারের বার্ষিক ইজারা বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিলো দলিল লেখক আলমগীর হোসেন সুমন। সে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুল মালেক রাঢ়ীর ভাতিজা। পৌর কর্তৃপক্ষ পে-অর্ডারটি তাদের হিসেব নম্বর মুলাদী শাখা জনতা ব্যাংকে জমা দিলে জালিয়াতীর বিষয়টি ধরা পড়ে। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জালিয়াতকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলেও পৌর কর্তৃপক্ষের নির্বিকার রয়েছে। এমনকি যে ব্যাংকের নামে ভুয়া পে-অর্ডার জমা দেয়া হয়েছে, সেই মার্কেন্টাইল ব্যাংক কর্তৃপক্ষও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য মুলাদী বন্দরের ইজারা আহ্বান করে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। গত ২৭ মার্চ দরপত্র বিক্রির শেষ দিন পর্যন্ত ৫টি দরপত্র বিক্রি হলেও ২৮ মার্চ প্রকাশ্য টেন্ডারে অংশ নেয় ৩টি প্রতিষ্ঠান। এতে ১ কোটি ৩ হাজার টাকা দর হাকিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন দলিল লেখক আলমগীর হোসেন সুমন। ৮৯ লাখ টাকা দর দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা হন মোসলেমউদ্দিন বয়াতী এবং ৮৪ লাখ টাকায় তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা হন আলমগীর হোসেন হিরন।

নিয়মানুযায়ী প্রকাশ্য টেন্ডারের আগেই উদ্বৃত দরের ৩০ ভাগ করে নগদ অর্থ কিংবা পে-অর্ডার কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আলমগীর হোসেন সুমন প্রাথমিকভাবে বাজারের ইজারাদার মনোনীত হন। পরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অনুকূলে জমা পড়া পে-অর্ডার ৩টি তাদের হিসেব নম্বর জনতা ব্যাংকে জমা দেন। উদ্বৃত দরের ৩০ ভাগ হিসেবে ৩০ লাখ টাকার পে-অর্ডার দেয়ার কথা থাকলেও সুমন জমা দেন ৫০ লাখ টাকার ভুয়া পে-অর্ডার (নম্বর ০৮৯৭৯৬৯, তারিখ ১১.০৩.১৩ইং)। মুলাদী শাখা জনতা ব্যাংক ওই পে-অর্ডারটি ক্লিয়ারিং করার জন্য বরিশাল কর্পোরটে শাখায় প্রেরন করলে সেখানে ধরা পড়ে জালিয়াতী। বিষয়টি নিশ্চিত হতে কর্পোরেট শাখা কর্তৃপক্ষ মার্কেন্টাইল ব্যাংক বনানী শাখায় যোগাযোগ করলে সেখান থেকে তাদের জানিয়ে দেয়া হয় ওই নম্বরের কোন পে-অর্ডার তাদের শাখা থেকে ইস্যু করা হয়নি। জালিয়াতীর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মুলাদী শাখা জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. রেদওয়ানুল করিম গত ২ এপ্রিল মুলাদী পৌর মেয়রের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযুক্ত জালিয়াতকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহেও পৌর কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেস্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পৌরসভার সচিব শফিউল আলম পে-অর্ডার জালিয়াতির কথা স্বীকার করে জানান, পৌরসভায় যে ভুয়া পে-অর্ডার দিয়েছে, তার দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। এখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যার সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে সেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার বনানী শাখা মার্কেন্টাইল ব্যাংক কর্মকর্তা কাজী গোলাম রাসুল জানান, তারা ওই নম্বরের কোন পে-অর্ডার ইস্যু করেননি, বিষয়টি জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।

অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন সুমন জানান, তিনি নিজে বন্দরের ইজারা টেন্ডারে অংশ নেননি। তার নামে দরপত্র কিনে পৌর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মেজবাউদ্দিন জুয়েল এবং ব্যবসায়ী আকতার হোসেন এনামুলসহ কয়েকজন টেন্ডারে অংশ নিয়েছে। পে-অর্ডার জালিয়াতীর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবী করেন।



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।