
নলছিটি সেটেলমেন্ট কার্যালয়
কর্মকর্তা আর দালালদের কাছে জিম্মি জমির মালিকরা
আবুল হাসান মৃধা আমাদেরবরিশাল.কম ১৬ April ২০১৩ Tuesday ৯:১৭:৩১ PM
নলছিটি :: ঝালকাঠির নলছিটিতে সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক শ্রেণীর দালালদের যোগসাজশে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যাঁরা মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে পারছেন, তাঁদের কাজ দ্রুত হচ্ছে। আর যাঁরা ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন, তাঁদের কোনো কাজই করছেন না কর্মকর্তারা। আর ঘুষ লেনদেনের এসব কাজে অফিসের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেরাই দালালদের পোষেণ বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। যদিও পুরো বিষয়টিই অস্বীকার করেছেন সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের সহকারী সেটেলমেন্ট ও আপিল কর্মকর্তা বি এম মোস্তাফিজুর রহমান।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভূমি জরিপের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু জরিপের সময় জমির মালিক থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে মাঠপর্চা দেওয়া হয় অন্যের নামে। একারণে প্রকৃত জমির মালিকরা উপায়ন্ত না পেয়ে মামলাও করেছেন উপজেলা সেটলমেন্ট অফিসে। আর মাঠপর্চা দেওয়া এবং মামলা নিষ্পত্তির কারণ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। একাজে তাঁদের সহযোগিতা করছে এক শ্রেণীর দালাল। দালালদের মাধ্যমে ঘুষ-বাণিজ্য নিরাপদ হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষকে তাদের কাছে যেতে বাধ্য করেন সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে মাঠপর্চা নিতে আসা উপজেলার বারইকরণ গ্রামের দিনমজুর মঈনুদ্দিন হাওলাদারের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪৫) জানান, তাঁর আট একর জমির দলিল চুরি হয়ে যাওয়ার পর থেকে চার বছর ধরে সেটেলমেন্ট অফিসে এলেও কর্মকর্তারা মাঠপর্চা দিচ্ছেন না। এমনকি তাঁকে অফিসের বালাম বই দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘আমার বাপ-দাদার জমির দলিল চুরি হওয়ার পর নতুন করে জরিপের সময় আমাকে মাঠপর্চা দেননি সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তারা। অফিসে এলে আমার কোনো কথাও তাঁরা শোনেন না। দালালরা আসে আর কাজ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা চায়। আমি গরিব মানুষ, এত টাকা কই পাব!’
উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের নওয়াব আলী (৮৫) জানান, গ্রামের বাড়ি থেকে সেটেলমেন্ট অফিসে আসতে-যেতে অনেক টাকা পথেই খরচ হয়ে যায়। তার ওপর কাজের বিনিময়ে দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হচ্ছে। এসব টাকার ভাগ নিচ্ছেন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। দালাল ছাড়া কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হলে কাজের অজুহাত দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অসংখ্য মানুষকে।
শুধু সুফিয়া বেগম আর নওয়াব আলীই নন, তাঁদের মতো শত শত মানুষ জমিসংক্রান্ত কাজের জন্য সেটেলমেন্ট অফিসে হন্যে হয়ে ঘুরছেন দিনের পর দিন। ঘুষ দিতে পারছেন না বলে তাঁদের কাজও হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জামাল হোসেন অভিযোগে বলেন, ‘সেটেলমেন্ট অফিসে সব কাজেই অনিয়ম। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অফিসে দালালদের উৎপাত বৃদ্ধি পেলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমার গ্রামের অসংখ্য মানুষ দালাল এবং অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে জিম্মি হয়ে কাজের বিনিময়ে ঘুষের টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।’
এদিকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী সেটেলমেন্ট ও আপিল কর্মকর্তা বি এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অন্য যেকোনো কার্যালয়ের চেয়ে জমিসংক্রান্ত মামলা ও আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয় এখানে। দালাল বলতে কিছু নেই। অবশ্য যাঁরা জমির কাজ বোঝেন না তাঁরাই সাহায্যকারী কাউকে নিয়ে আসেন।’
দালাল বিষয়ে তাঁর এ কথার ঠিক উল্টোটা জানালেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসানাত মো. আরেফীন। তিনি জানান, সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের দালালদের মাঝ থেকে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
|