![]() সাত নম্বর বিপদ সংকেতঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় নয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক, ৯২ মেডিকেল টিম প্রস্তুতঅচিন্ত্য মজুমদার ১৫ May ২০১৩ Wednesday ২:০৭:২৩ PM
ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও মেডিকেল টিমের সদস্যরা দফায় দফায় মিটিং করছে। তবে জেলার ১৯ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ২৫০টি আশ্রয় কেন্দ্র থাকায় চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অনেক মানুষ। মঙ্গলবার থেকেই ভোলার মনপুরা, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন ও দৌলতখানের বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের মূল ভূখন্ডে চলে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি উপজেলার জন্য শুকনো খাবার মজুদ করা হয়েছে। মাইকিং করা হচ্ছে প্রত্যেকটি এলাকায়। আবহাওয়ার অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ১৫ মে বুধবার আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে চট্টগ্রামের নিকট দিয়ে খেপুপাড়া-টেকনাফ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের বর্ধিতাংশের প্রভাবে বুধবার রাত ১০টা থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিঃ মিঃ এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিঃ মিঃ যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ঘন্টায় ৮৮ কিঃ মিঃ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকট সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এসব জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে ঘন্টায় ৮০-৯০ কিঃ মিঃ বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উপকূলীয় নদ-নদী ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। দৌতখানের হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, দৌলতখানের বিচ্ছিন্ন হাজিপুর ইউনিয়নের মানুষকে মূল ভূখন্ডে আনা হচ্ছে। তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে শুকনো খাবারের। জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল বাকি আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানিয়েছেন, মনপুরায় সর্বোমোট ২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং স্কুল ও কলেজের ভবনগুলোতে সবমিলে ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণীঝড়ে সবাইকে সর্তক করে মাইকিং করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনপুরায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নগদ তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল ওয়াহেদ বলেন, সব উপজেলার সাইরেন মেশিন সচল থাকলেও জেলা সদরের সাইরেন মেশিনটি বিকল থাকায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় তা কোনো কাজে আসবে না। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় জনগণকে সতর্ক করার হচ্ছে। ভোলা জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আমরা দফায় দফায় মিটিং করছি। ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডরে ভোলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখে মহাসেন মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জেলায় গঠিত সাতটি কন্ট্রোল রুম রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করছে। এছাড়া, প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৯২টি মেডিকেল টিম ও নয় হাজার ১৩৫ জন স্বেচ্ছাসেবী। ২৫০টি সাইক্লোন সেল্টার দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। ঝড় পরবর্তী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইন রাখা হয়েছে মেডিকেল টিমগুলোতে। বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের মূল ভূখন্ডে চলে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নিদের্শ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি ও আধাসরকারি সব দপ্তরের ছুটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

ভোলা :: উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’র কারণে বুধবার ভোলাসহ উপকূলীয় জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহকে ৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ভোলা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৯২টি মেডিকেল টিম ও নয় হাজার ১৩৫ জন স্বেচ্ছাসেবী। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাইরেন মেশিন। নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসতে বলা হয়েছে জেলে নৌকা ও ট্রলারকে।