![]() বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ‘মহাসেন’ ঝুঁকিতে বরগুনার লক্ষাধিক হতদরিদ্র পরিবারমনির হোসেন কামাল ১৫ May ২০১৩ Wednesday ৭:০২:২৮ PM
অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের ৭ নম্বর বিপদ সংকেত প্রচারের পর থেকেই নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পাড় করছে বরগুনা ও এর আশে পাশের উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ও শিশুসহ প্রায় অর্ধকোটি মানুষ। গত দু’দিনে বরগুনা জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ সদর উপজেলাসহ পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ঘুরে ও স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারনে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে রয়েছে ছিন্নমূল মানুষের জন্য সরকারী আবাসন প্রকল্পগুলি। যার অধিকাংশই তৈরী করা হয়েছে বেরীবাঁধের বাইরে খরস্রোতা বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বর নদী তীরবর্তী খাস জমিতে। সমগ্র জেলায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ২৮টি আবাসন প্রকল্প ও ১৮২টি ব্যারাক হাউজ রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫ হাজার পরিবার বসবাস করছে। এসব ব্যারাকে বসবাসকারী ৫ হাজার পরিবারের নারী ও শিশুসহ ২৫ হাজারেরও বেশী মানুষ সর্বাপেক্ষা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আবাসন প্রকল্প ছাড়াও কোনমতে বাঁশ, ছন, খড়কুটো বা সস্তা টিনের ছাউনী দিয়ে বেরীবাঁধের বাইরের সরকারী খাস জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে এমন পরিবারের সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশী হবে। ফলে নারী ও শিশুসহ এসব পরিবারের প্রায় দুই লাখ মানুষও সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণীঝড় সিডরের ছয় বছর পর এখনও সংস্কার হয়নি বরগুনার ২৭০ কিলোমিটার বেরীবাঁধ। যার কারনে যেকোন ছোটখাট দুর্যোগের ক্ষেত্রেও এসব এলাকার গাছপালা ও ঘরবাড়ি ও গবাদিপশুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা বিষয়ে অভিজ্ঞ স্থানীয় সচেতন মহল। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি জানান, সিডর ও আইলার পরে বরগুনার ২২টি পোল্ডারে ৫২০ কিলোমিটার বেরীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার মধ্যে থেকে এ পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার সংস্কার করা হয়েছে। এখনও ২৭০ কিলোমিটার বেরীবাঁধ সংস্কার করা হয়নি। এদিকে ঘূর্নিঝড় মহাসেন মোকাবেলায় বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যেই গঠন করা হয়েছে ৪৬টি মেডিকেল টিম। গুরুত্বপূর্ণ সকল সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোলা হয়েছে ইমারজেন্সী কন্ট্রোলরুম। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী সিপিপির ৩৭২টি ইউনিটের পূর্ব প্রশিক্ষিত ৫ হাজার ৫৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক পূর্বসংকেত প্রচারের পাশাপাশি যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপ-পরিচালক হাফিজ আহম্মেদ জানিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় প্রবণ উপকূলীয় জেলা বরগুনায় সর্বমোট ৩২৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র বা সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। এতে প্রায় দেড়লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে বলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন। সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

বরগুনা :: লোকবেতারই এখন বরগুনাবাসীর শেষ ভরসা হিসেবে ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা বরগুনাবাসীর কাছে পৌছে দিচ্ছে। ১৪ মে মঙ্গলবার বিকেল ৪ টায় বিদ্যুৎ চলে যাবার পরে সকল টিভি চ্যানেল দেখা বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কখন বিদ্যুৎ আসবে সেকথা কেউই বলতে পারছেনা। বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন জানান, বদনীখালী এলাকায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের বিস্ফোরণ ঘটেছে। তাই বিদ্যুৎ কখন আসবে বলতে পারছেন না। কমিউনিটি রেডিও লোকবেতার ছাড়া এখন ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা শোনার আর কোন উপায় নেই।