" />
AmaderBarisal.com Logo

আবারো অস্থিতিশীল বিএম কলেজ ক্যাম্পাস

ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষারের কাছে জিম্মি সাধারন শিক্ষার্থীরা


আমাদেরবরিশাল.কম

৩ May ২০১১ Tuesday ১১:০০:০১ PM

ছবিতে লাল বৃত্ত চিহ্নিত ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার

ছবিতে লাল বৃত্ত চিহ্নিত মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার (ছবিটি ১১ মার্চ বিএম কলেজের সামনে থেকে তোলা) – ফাইল ফটো

বরিশাল :: বরিশালের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাত ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় (বিএম) কলেজ বেশ কিছুদিন ধরে কলেজ ছাত্র সংসদ ‘বাকসু’ নির্বাচন নিয়ে আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিনে সংগঠিত সহিংসতায় ৪ জন ছাত্র আহত এবং অধ্যক্ষের কক্ষ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া প্রতিদিনই বহিরাগতদের নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়ার ঘটনা ঘটছে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকায় গতকাল সোমবার এক সভায় কলেজের সকল ক্লাশ আগামী ১০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে।

অধ্যক্ষ ড.ননী গোপাল দাস এ ব্যাপারে বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্ধের কারনে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় ৩ মে থেকে ১২ মে পর্যন্ত সকল বিভাগের ক্লাশ সকল ক্লাস স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএম কলেজে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মূলে রয়েছে মেয়র শওকত হোসেন হিরনপন্থী উগ্র ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাতের অতিউৎসাহ ও ক্ষমতার লিপ্সা। ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রীসহ বেশকিছু ছাত্র সংগঠন বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ ‘বাকসু’ নির্বাচনের দাবীতে কিছুদিন ধরে কর্মসূচি পালন করে আসছিল। প্রথমদিকে কর্মসূচি মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি পেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের অতিউৎসাহ ও ক্ষমতার লিপ্সায় এই কর্মসূচি এখন সহিংসতায় রুপ নিচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে শিক্ষক লাঞ্চিত ও অধ্যক্ষের কক্ষ ভাংচুরের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এরই মধ্যে ‘বাকসু’ নির্বাচনের দাবীতে একাট্টা ছাত্রলীগের মাঝেও দেখা দিয়েছে বিভক্তি। শিক্ষক লাঞ্চিত ও অধ্যক্ষের কক্ষ ভাংচুরের ঘটনা নিবৃত্ত করতে যেয়ে নিজ দলের ক্যাডার মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাতের হাতে প্রহৃত হয়েছেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক রফিক সেরনিয়াবাত।

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সূচনা হয় ১০ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাসকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করার মধ্য দিয়ে। সেদিন মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আশির্বাদপুষ্ট ক্যাডার মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত, হাতেম আলী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বাবলু জোমাদ্দার, শাওন, নয়ন, জসিমসহ অর্ধশত ক্যাডার বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে মিলিত হয়। এরপর তারা প্রশাসনিক ভবনের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে। বাকসু নির্বাচন নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে মঈন তুষার, নাহিদের কথার কাটাকাটি ঘটে। একপর্যায়ে নাহিদ, মঈন তুষার ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষকে সজোড়ে ধাক্কা মারে ও গালাগালি করে এবং কক্ষে থাকা চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে। এরপর তারা অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাসকে তার রুমে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। কলেজের শিক্ষকদের হস্থক্ষেপে দুপুর পোনে ২টায় ক্যাডাররা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করেন।

এ  ঘটনার পরিপেক্ষিতে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক রফিক সেরনিয়াবাত ও মাকসুদুল আলম মাকসুদ কলেজের শিক্ষকদের উপর হামলা করে আন্দোলন না করে, শিক্ষকদের শারিরিকভাবে লাঞ্চিত’র ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবী জানালে ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার বাহিনী তাদের উপর ‍ক্ষিপ্ত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ২৯ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে বিএম কলেজ অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাসের কার্যালয়ে ‘বাকসু’ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত অধ্যক্ষের কক্ষ ভাংচুর করে টেলিফোন সেট ও চেয়ার বাহিরে ফেলে দেন। এসময় কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক রফিক সেরনিয়াবাত তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত ক্ষিপ্ত হয়ে রফিক সেরনিয়াবাতের শার্টের কলার ধরে এলোপাথারি মারধর শুরু করে। পরে অন্য ছাত্র নেতারা রফিক সেরনিয়াবাতকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়। মুলত এ ঘটনার পর থেকেই প্রকাশ্য হয়ে পড়ে ছাত্রলীগের মধ্যকার অন্তর্দন্দ্ব।

এ ঘটনার পর মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আশির্বাদপুষ্ট ক্যাডার মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে বহিরাগত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফাঁসি কামালসহ অর্ধশত বহিরাগত নিয়ে ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়া দিলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠে। এতে সাধারন শিক্ষার্থীরা আতংকিত হয়ে পড়ে, কিন্তু এতকিছুর পরও পুলিশ রয়েছে নীরব দর্শকের ভুমিকায়। অভিযোগ উঠেছে, মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের আশির্বাদপুষ্ট বলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক রফিক সেরনিয়াবাত বলেন, বাকসু নির্বাচনের দাবী সকল ছাত্রদের। কর্তৃপক্ষও বলেছেন, কলেজে সকল ছাত্রসংগঠনের অংশগ্রহনে সুষ্ঠু শান্তিপূর্ন পরিবেশ সৃষ্টি হলেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করা হবে। কিন্তু শিক্ষকদের উপর হামলা করে আন্দোলনের কোন মানে হয় না। ছাত্রলীগ নামধারী কিছু ক্যাডার অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত করে তার কক্ষ ভাংচুর করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় আর এ ঘটনার প্রতিবাদ করাতেই তারা আমার উপর হামলা চালায়। তিনি এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। একই কথা বলেছেন, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক মাকসুদুল আলম মাকসুদ।

অন্যদিকে মেয়রপন্থী ছাত্রনেতা যুগ্ম আহবায়ক মঈন তুষার যথারীতি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাকসু নির্বাচনের দাবীতে ছাত্ররা দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু অধ্যক্ষ ছাত্রদের আন্দোলনের বিষয়টি নজরে নিচ্ছেন না। আর রফিক সেরনিয়াবাত’র উপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, বাকসু নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে শুধু তর্কাতর্কি ঘটেছে।

বাকসুর সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ফয়সাল বিন ইসলাম বলেন, বাকসু নিবাচন ছাত্রদের দাবী। এটা দ্রুত হওয়াও উচিৎ। কিন্তু কলেজে বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে আন্দোলন করা কোন সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকান্ড হতে পারে না। বিশেষ করে শিক্ষকদের লাঞ্চিত করার বিষয়টি বিস্ময়কর। তিনি আরো বলেন, এরা ছাত্রলীগের রাজনীতিকে বিতর্কিত করে কলেজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলছে। কলেজে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেয়া ক্যাডারদের শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, বি.এম কলেজ ছাত্রসংসদের (বাকসু) সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০২ সালে। এরপর আর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।