
রিকশা উল্টে আহত দুই
অপরিকল্পিত নর্দমা, একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা
আমাদেরবরিশাল.কম
২১ May ২০১৩ Tuesday ৫:৫৫:০৭ PM
 ২১ মে মঙ্গলবার বৃষ্টি থামার ঘন্টাখানেক পর বরিশালের সাংবাদিক মাইনুল হোসন সড়কের (আগরপুর রোড) একটি দৃশ্য। রাস্তা উপচে দোকানে ঢুকে পড়া পানি নিষ্কাশন করছেন এক ব্যবসায়ী (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
বরিশাল :: ‘কির লইগ্যা যে টাহা খুয়াইয়া ড্রেন (নর্দমা) বানায়, হেয়া কইতে পারি না। আমাগো খোলা ড্রেন ভালো আছেল। অন্তত রাস্তায় পানি ওডে নাই।’ এ কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল শহরের রিকশাচালক মোহাম্মদ আলী। নগরীর বগুড়া রোডের রিকশাচালক মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘এত টাহা খরচ কইরা লাভ কী হইল, ভালা বৃষ্টি হওয়ার আগেই রাস্তায় আডু (হাটু) সমান পানি জমে।’
২১ মে মঙ্গলবার দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাটু প্লাবিত হয়েছে বরিশাল নগরীর অধিকাংশ স্থান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সদর রোড, বাংলাদেশ ব্যাংক, অশ্বিনী কুমার হল, বগুড়া রোড, মুনশীর গ্যারেজ, কালীবাড়ি রোড, কাউনিয়া, বাজার রোডসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক। এসব সড়কের কোনো কোনো স্থানে বৃষ্টি থামার ঘন্টাথানেক পরও এক থেকে দুই ফুট পর্যন্ত পানি জমে ছিল। এদিকে নগরীর কাউনিয়া এলাকায় পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় চলতে গিয়ে রিক্সা নর্দমায় পরে দুই যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছে। আহতরা হলেন- মহাশ্মশান এলাকার রমিজ উদ্দিন ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম।
নগরবাসীর অভিযোগ, নর্দমা নির্মাণের ক্ষেত্রে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিকল্পনাহীন উদ্যোগ এবং মেয়র, কাউন্সিলর, ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের লাভ-লোকসানের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। নগরের খাল ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে নর্দমা নির্মাণের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
নগরীর শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেনের বাসিন্দা আজমল হোসেন বলেন, পানি সরবে কীভাবে, নর্দমা নির্মাণের সময় ঢালাইর নিচে যে কাঠ ও বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে, তাও অপসারণ করা হয়নি। যার জন্য এসব নর্দমা দিয়ে পানি সরছে না। তাছাড়া বড় বড় খাল ভরাট করে সরু নর্দমা নির্মাণ করা হয়েছে।
বরিশাল মানবাধিকার জোট সভাপতি সৈয়দ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার জীবনে সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এক হাঁটু পানি দেখিনি। যুগোপযোগী নর্দমার ব্যবস্থা না থাকায় জনগণ এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
বরিশাল নদী-খাল ও জলাশয় রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, ‘নগরবাসীকে এই দুর্ভোগে ফেলছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। একসময় বরিশালের যে নর্দমা ছিল, তাতে পানি শুষে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। বর্তমান ব্যবস্থায় তা করা হয়নি। আমরা মৌখিক ও লিখিতভাবে বলার পরও কাউন্সিলর ও ঠিকাদারদের খুশি রাখতেই ওই ব্যবস্থায় নর্দমা করা হয়েছে।’
সিটি কর্পোরেশনের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দীপক লাল জানান, নর্দমা ঠিকমত পরিস্কার করা হয়। ঢালাইর নিচের যে কাঠ ও বাঁশ না সরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওগুলো পঁচে সরে যায়।’ তিনি দাবি করেন, নর্দমার নীচ পর্যন্ত গিয়ে পরিস্কার করা সম্ভব নয়। তারপরও আমরা মাঝে মধ্যে পানির প্রেসার দিয়েও নর্দমা পরিস্কার রাখি।
এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোতালেব হোসেন জানান, গত সাড়ে ৪ বছরে ৮৪ কিলোমিটার পাকা নর্দমা ও মাস্টার নর্দমা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি টাকার বেশি। তার দাবি, জোয়ারের পানির কারণে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার মো: ইউসুফ জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদীতে আজ (মঙ্গলবার) অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিক জোয়ার ছিল। আর বর্ষাকালে এরকম বৃষ্টি স্বাভাবিক। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক
প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
|