" />
AmaderBarisal.com Logo

‘মহাসেনে’ হারিয়ে গেছে কৃষকদের স্বপ্ন

অচিন্ত্য মজুমদার
আমাদেরবরিশাল.কম

২১ May ২০১৩ Tuesday ১০:৩৫:৪৩ PM

bhola-mohasen কৃষকের মাঠের বিনষ্ট ফসলভোলা :: ভোলার কৃষকরা যখন জমির ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। ঠিক তখন ঘূর্ণিঝড় মহাসেন ও গত দু’দিনের টানা বৃষ্টি তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। তিল তিল করে গড়া বিস্তীর্ণ ক্ষেতের বোরো, চিনা বাদাম, মুগ, মাছের ঘের, সবজী আর পানের বরজ অধিকাংশই আজ ঘূর্ণিঝড়ে বিনষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। বিধ্বস্ত কৃষক পরিবারগুলোকে এখন নষ্ট হয়ে যাওয়া এই ফসলের মাঠে দিন-রাত অবিশ্রান্ত কাজ করতে হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ছাড়াও জেলার ২৭শ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে ২০ হাজার কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে। কিন্তু এ অবস্থায়ও সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেনি কৃষি বিভাগ। ফলে কৃষিজমি, ঘরভিটা আর সহায় সম্বল হারিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন ভোলার মনপুরা ও চরফ্যাশনসহ জেলার ৭ উপজেলার কৃষক। মঙ্গলবার সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঝড়ে ২৯ হাজার হেক্টর জমির ৫ জাতের ২৭শ হেক্টর ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি অফিসের হিসাব মতে, কৃষকদের ১৭ কোটির টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। জমির ফসল হারিয়ে ২০ হাজার কৃষকের ভাগ্যে নেমে এসেছে হতাশা।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, বেশিরভাগ কৃষকই বিভিন্ন এনজিও থেকে মোটা অংকের ঋণ আর মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে জমিতে চাষাবাদ করেছেন। ফসল গোলায় আনার পর তা বাজারে বিক্রি করে দেনা শোধ করার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ঋণের দায় নিয়ে এখন মাথায় হাত তাদের।

চরফ্যাশনের কৃষক লোকমান, সাফিজল, আবুল কালাম ও সদরের ফরিদ বলেন, “ঝড়ে বাদাম ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারিভাবে কোনো সাহায্য পাইনি।”

কৃষক কাসেম ও জাভেদ বলেন, “এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বোরো ও মুগ চাষ করেছি। কিন্তু ক্ষেতের সব ফসল নষ্ট হয়েছে গেছে। ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। কৃষি অফিস আমাদের কোনো সহযোগিতা করছে না।”

এদিকে, শুধু ফসলই নয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬৮টি পুকুর। এসব পুকুরে ১৮ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে ভোলা সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ১৬৮টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শান্তি রঞ্জন মল্লিক আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, চরফ্যাশন, লালমোহন, সদর, দৌলতখান, তজুমদ্দিন ও বোরহানউদ্দিনে বোরো, চিনা বাদাম, মুগ, কাচা মরিচ ও সবজি নষ্ট হয়েছে। টাকার অংকে ১৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরো জানান, সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যদি বরাদ্দ দেওয়া হয় তাহলে তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।