![]() কে হচ্ছেন বরিশালের নগরপিতা?
১৫ June ২০১৩ Saturday ৭:২২:৩৭ AM
![]() মেয়র পদপ্রার্থী আহসান হাবীব কামাল, শওকত হোসেন হিরন, মাহামুদুল হক খান মামুন বরিশাল :: কে হচ্ছেন বরিশালের নগরপিতা? শুক্রবার দিনভর নগরীর ঘরে ঘরে মানুষের মুখে মুখে চলেছে এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা। বরিশালে মেয়র পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দিতা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরণ (টেলিভিশন) ও বিএনপি সমর্থিত আহসান হাবিব কামালের (আনারস) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছে ভোটাররা। নির্বাচনে হিরণের ভরসা হচ্ছে তার ৪ বছর ৮ মাসের উন্নয়ন। আর কামালের ভরসা হচ্ছে বরিশালে বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক। তবে ব্যক্তি কামালের প্রতি দলীয় কর্মীদের খুব একটা আন্তরিকতা দেখা যায়নি। যতটা সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান সরোয়ারের প্রতি রয়েছে। তবে এতদিন এ দু’নেতার মধ্যে বিভেদ থাকায় বিএনপি রিজার্ভ ভোট এককভাবে কামালের বাক্সে যাবে এমনটি জোর দিয়ে বলতে পারছেনা দলীয় কর্মীরাও। এতে করে বিশাল ভোট ব্যাংক থাকলেও নিশ্চিত থাকতে পারছেন না কামালের সমর্থকরা। কামালের বিজয়ের পথে কাঁটা রয়েছে রিকশা ও অটো চালকরা। পৌর সভার চেয়ারম্যান পদে থাকার সময় নগরীর অবৈধ বেশ কিছু রিকশা কীর্তনখোলা নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন। আর এ ইস্যু ধরে কামালবিরোধী প্রচারণাও চালিয়েছেন অপর মেয়রপ্রার্থী হিরনের সমর্থকরা। সে কারণে রিকশাচালকরা তার প্রতি অনেক ক্ষুব্ধ। আর বিগত নির্বাচনে মেয়র পদে হেরে যাওয়ার পর নগরী ছেড়ে দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করার নগরবাসীর সঙ্গে তার কিছুটা দুরত্বও সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে হিরণের গত চার বছর ৮ মাস ক্ষমতায় থাকার সময় বরিশাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শংকর চন্দ্র দত্তকে মারপিট করে তার অনুসারী ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। ওই ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে নিরপরাধ কিছু ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় হিরণ। এছাড়া ২০০৮ সালে মাত্র৬ হাজার টাকা করদাতা থেকে মেয়র হওয়ার পর ৮৭ লাখ টাকা কর দিয়ে বরিশালের শ্রেষ্ঠ করদাতা হওয়াকে মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। হটাৎ করে মাত্র সাড়ে চার বছরে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়াকেও সন্দেহের চোখে দেখছেন ভোটাররা। অপরদিকে ৪৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হলেও তার মান নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। উন্নয়ন টেকসই হয়নি বলে নগরবাসী থেকে শুরু করে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এছাড়া রয়েছে হেফাজত ও জামায়াতে ইসলামীর ভোট। সর্বশেষ বুধবার রাতে কামালের দেহরক্ষীর ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ। এ বিষয়গুলো ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন হিরন। প্রসঙ্গত, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জেলে থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে ব্যর্থ হন সরোয়া। ওই নির্বাচনে সরদার শরফুদ্দিন সান্টুকে সমর্থন দেয় বিএনপি। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামাল ও এবায়দুর রহমান চান। বিএনপির ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হলে নগর পিতা হন আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন হিরন। ভোটে হিরণ বিএনপি সমর্থিত সান্টুর থেকে মাত্র ৫১২ ভোট বেশি পান। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র প্রার্থী কামাল পান প্রায় ২৬ হাজার ভোট ও এবায়দুর রহমান চাঁন পান প্রায় ২০ হাজার ভোট। বিএনপির তিন প্রার্থীর ভোট একত্র করলে হিরনের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। সেই সমীকরণ থেকেই একক প্রার্থী থাকায় বিজয় সহজ মনে করছে বিএনপি। ২ লাখ ১০ হাজার ভোটের মধ্যে ধরা হচ্ছে, সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। সে হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে মোট কাস্ট হবে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজারের মতো। কোনো প্রার্থী ৮০ থেকে ৯০ হাজার ভোট পেলেই তার বিজয় নিশ্চিত বলা যায়। আর বিগত নির্বাচনে বিএনপির তিন প্রার্থীর ভোটের গড় করা হলে দাঁড়ায় ৯২ হাজার। সে হিসেব করেই বিএনপি কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

