" />
AmaderBarisal.com Logo

বিনিয়োগকারীর টাকা ভিন্নখাতে ব্যয় সোনারগাঁও টেক্সটাইলের!


আমাদেরবরিশাল.কম

১৮ June ২০১৩ Tuesday ১:৩০:৫০ PM

khansons-group খানসন্স গ্রুপডেস্ক রিপোর্ট :: বাজারে রাইট শেয়ার ছেড়ে টাকা তোলার পর তা অন্যখাতে ব্যয় করেছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। যদিও কোম্পানিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বিনিয়োগকারীদের সম্মতিতেই এ কাজ করেছে। তবে বাস্তবে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোম্পানিটি ২০১১ সালে ৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ার ১৫০ টাকা দরে ১০ লাখ ৯১ হাজার ২০০টি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে মোট ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করে।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, উত্তোলিত টাকা কারখানার পণ্য উৎপাদন ও মান বৃদ্ধি, উৎপাদন বাড়াতে নতুন ও ব্যবহৃত মেশিন স্থাপনের কাজে ব্যয় করবে। কিন্তু, টাকা তোলার পর কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা ভিন্নখাতে ব্যবহার করে; যা থেকে বিনিয়োগকারীরা কোনো ফল পাবেন না।

জানা যায়, কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ মোট ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে প্রথম পর্যায়ে মাত্র পাঁচ কোটি টাকা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ব্যয় করে। এরপর তুলা স্বল্পতা, শ্রমিক স্বল্পতা এবং বিদ্যুৎ ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের টাকা ভিন্ন খাতে ব্যবহার করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোম্পানিটি বাজার থেকে উত্তোলিত টাকার ১১ কোটি টাকা তাদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেছে, যা রাইট শেয়ার ছাড়ার সময় কোম্পানির প্রস্পেক্টাসে উল্লেখ ছিল না।

যদিও কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা এ কাজের জন্য বিএসইসি ও বিনিয়োগকারীদের সম্মতি নিয়েছে। কিন্তু, সম্প্রতি বিএসইসি’র পক্ষ থেকে উত্তোলিত টাকা সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ব্যয় করা হয়নি, এ অভিযোগে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন আবার অডিট করতে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও টেক্সটাইল কোম্পানির কোম্পানি সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা সব নিয়ম মেনেই রাইট শেয়ারের টাকা ব্যয় করেছি।”

রাইট শেয়ারের টাকা ভিন্নখাতে ব্যয় করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা বিএসইসি ও বিনিয়োগকারীদের সম্মতি নিয়েই উত্তোলিত টাকার একটি অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছি।”

সম্মতি নিয়ে ব্যয় করলে বিএসইসি আবার কেন আপনাদের চিঠি দিয়েছে, জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব বলেন, “বিএসইসি কোম্পানিগুলোর কাছে যে কোনো বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে পারে। তারা সবকিছুই করতে পারে। আমরা তাদের চিঠির ব্যাখ্যা দেবো।”

কোম্পানির শেয়ার বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “আমরা বিএসইসি’র চিঠি পেয়েছি। কিন্তু, সেখানে এ বিষয়টি ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চিঠিতে তারা কী বলতে চাইছে, তা পরিস্কার নয়। তারপরও আমরা আর্থিক প্রতিবেদন অডিট করাবো।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা যখন টাকা উত্তোলন করেছিলাম, তখন আমরা মাত্র পাঁচ কোটি টাকা কোম্পানির উৎপাদন খাতে ব্যয় করেছিলাম। তখন ব্যবসা ভালো না হওয়ায় পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা বাকি টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য বিএসইসি’র কাছে আবেদন করি। তখন বিএসইসি বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি থাকায় বিষয়টি অনুমোদন দেয়।”

বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, “সোনারগাঁও টেক্সটাইল যদি দাবি করে তারা সঠিকভাবে অর্থ ব্যয় করেছে, তাহলে তারা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিক।”

আর্থিক প্রতিবেদন অডিট করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি কমিশনের রুটিং মাফিক কাজ। কোনো বিষয়ে অনিয়ম করা হয়েছে মনে করলে কমিশন তা খতিয়ে দেখতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, “কোনো কোম্পানিকেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের টাকা নিয়ে ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। বিএসইসি’র এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।