![]() ক্যাডার মঈন ও নাহিদের নেতৃত্বেজেলা ছাত্রলীগ আহবায়ক ও যুগ্ন-আহবায়কের উপর হামলা
১৮ May ২০১১ Wednesday ৯:৪৫:৩৭ AM
![]() ছবিতে লাল বৃত্ত চিহ্নিত মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার (ছবিটি ১১ মার্চ বিএম কলেজের সামনে থেকে তোলা) – ফাইল ফটো বরিশাল :: বরিশাল বিএম কলেজে বহিরাগতদের নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক, যুগ্ন-আহবায়কসহ এক ছাত্রনেতাকে মারধর করে ও নগরীতে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে আবারো শিরোনাম হলেন ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডার মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াত। মঙ্গলবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মিলন ভূইয়া, যুগ্ন আহবায়ক কাজী মুনীর উদ্দীন তারিক ও ছাত্রলীগ নেতা ওয়াসিম দেওয়ানকে বেধম মারধর করেছে মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াতের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বরিশাল নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে রাত ৯টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক কাজী মুনীর উদ্দীন তারিক ও অসিম দেওয়ানকে এ্যাডঃ আনিছুল হক শহিদ এর চেম্বারের মধ্যে ঢুকে বেধম মারধর করে মঈন তুষার, নাহিদ সেরনিয়াবাত, শাওন, জুবায়ের, আরিফুর রহমান অপু, জসিম, মুন্না, উল্লাহ সহ কয়েকজন ক্যাডার। হামলাকারীরা সকলেই বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরন সমর্থিত ছাত্রলীগ বলে নগরীতে পরিচিত। এ হামলার সময় বাকেরগঞ্জ ছাত্রলীগের বিদ্রোহী একটি গ্রুপও প্রত্যক্ষভাবে তাদেরকে মারধরে অংশ নেয়। মিলন-তারিককে লাঞ্চিত করার পর পুনরায় হামলার উদ্দেশ্যে বিএম কলেজে ফিরে গিয়ে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রে সাজ্জিত হয় তুষার বাহিনী। সেখান থেকে বের হয়ে ক্যাডাররা বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, আমতলার মোড়সহ গুরুত্বপূর্ন স্থানে যুদ্ধাংদেহী অবস্থায় অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেয়। এসময় পুরো বরিশাল নগরীতে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তারা জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মিলন ভূইয়ার তল্লাশিতে ছুটে আসে হাসপাতাল রোড এলাকায়। সোনালী সিনেমা হলের সম্নুখে মিলন ভূইয়াকে পেয়ে অতর্কিত ভাবে মারধর শুরু করে হিরনপন্থি ক্যাডার বাহিনী। এ সময় মিলন ভূইয়ার পরিহিত পাঞ্জাবী ছিড়ে ফেলে সন্ত্রাসীরা। সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বজলু, বিটন, সবুজ সহ কয়েকজনের সহযোগীতায় কোন রকমে তাদের হাত থেকে ছুটে দৌড়ে পালায় মিলন ভূইয়া। হামলার শিকার কাজী মুনীর উদ্দীন তারিক আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, সোমবার বাকেরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগ কার্যালয়ে এক কর্মিসভার মাধ্যমে উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখার কমিটি গঠন করা হয়। দলের প্রতি ত্যাগ ও নিষ্ঠা রয়েছে তাদেরকেই উল্লেখযোগ্য পদগুলো দেয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় পদ বঞ্চিত নব্য ছাত্রলীগ নেতারা। এর জেরে ধরে সন্ত্রাসী মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাতের নেতৃত্বে আলেকান্দার শাওন, জেলার সদস্য ফরিদুল ইসলাম উল্লাহ, সাগরদীর জসীম, মুন্না, হাতেম আলী কলেজের পাভেল, ল’ কলেজের আরিফুর রহমান অপু, জুবায়েরসহ একদল সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। এসময় পাশে দাড়িয়ে থাকা দেওয়ান অসিমকেও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও লাঞ্চিত করেছে তুষার বাহিনী। অভিযুক্ত ক্যাডার মঈন তুষার জানান, তিনি হামলার কথা শুনেছেন কিন্তু এর সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবী করেন। আরেক অভিযুক্ত নাহিদ সেরনিয়াবাত জানিয়েছেন, তারা ছাত্রনেতাদের উপর হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। তবে বাকেরগঞ্জ ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ছাত্রনেতাদের মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের মাঝে উত্তেজনা চলছে। বিএম কলেজসহ কয়েকটি স্থানে মটরসাইকেলে মহড়া দেয়ার খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তিনি আরো জানান, পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোন অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ টহল দিচ্ছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে বিদ্রোহী গ্রুপের পক্ষ হয়ে মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াতের ক্যাডার বাডিনী এ হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টায় বাকেরগঞ্জ দলীয় কার্যালয়ে কর্মী সভার আয়োজন করে জেলা ছাত্রলীগ। কর্মী সভা শেষে সোমবার রাতে সাইফুল ইসলাম ডাকুয়াকে সভাপতি, সৈয়দ রিপনকে সাধারন সম্পাদক করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনা করে। পৌর শাখায় কাওসার আহমেদকে সভাপতি ও তুষার দেবনাথকে সাধারন সম্পাদক করা হয়। এছাড়া সরকারী কলেজ কমিটিতে মুহিতুল ইসলাম মিরাজকে সভাপতি এবং মুশফিকুর রহমান দোলন।কে সাধারন সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষনার পর পরই নিজের এখতিয়ারের বাইরে সম্পূর্ন অবৈধভাবে তিনটি পাল্টা কমিটি ঘোষনা করে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ফরিদুল ইসলাম উল্লাহ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংগঠনের জন্য উল্লাহর কোন অবদান নেই। তার পরেও মেয়র হিরনের আশির্বাদে নেতা বনে গিয়েছে সে। এর প্রেক্ষিতেই গত রাতের ঘটনার সৃষ্টি হয়। গতকাল সন্ধ্যায় পত্রিকা অফিসে পাঠানো জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মোঃ ফরিদুল ইসলাম উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা ডাকবাংলো হলরুমে বাকেরগঞ্জ ছাত্রলীগের এক কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মিসভায় এসএম আতিক কে সভাপতি ও এইচএম সাইফুর রহমান শাহানকে সাধারন সম্পাদক করে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়। এছাড়া ফিরোজ আলমকে সভাপতি ও সোহেল মৃধাকে সাধারন সম্পাদক করে পৌর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেহেদি হাসান শামিমকে সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনকে সাধারন সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ঠ সরকারী বাকেরগঞ্জ কলেজের কমিটি ঘোষনা করে। এ কমিটি বৈধ কিনা জানতে চাইলে ফরিদুল ইসলাম উল্লাহ বলেন, বৈধ-অবৈধ বুঝি না। ওরা একটি কমিটি করেছে, তার কাউন্টারে আমরা একটা করলাম। বিদ্রোহী গ্রুপের ছাত্রনেতা এসএম আতিক দাবী করেন, অবৈধ পন্থায় সাইফুল ইসলাম ডাকুয়াকে সভাপতি করে কমিটি ঘোষনা করা হয়। বিষয়টি ছাত্রলীগের মাঠের নেতা-কর্মীরা বর্জন করেছে। এরপর সকলের সন্মতিক্রমে এখানকার ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের এক গ্রুপের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ত্যাগী আর মাঠের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতেই জেলা ছাত্রলীগ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি’র অনুমোদন দিয়েছে। এখন যারা নিজেদের ত্যাগী হিসাবে জাহির করে পাল্টা কমিটি ঘোষনা করেছে তারা সংগঠনের দূর্দিনে ছিল না। জেলা ছাত্রনেতাকে মারধরের ঘটনায় বরিশাল ছাত্রলীগের পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বাকেরগঞ্জে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগের মাঝে দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রনেতাদের মারধর ও নগরীতে সশস্ত্র মহড়ার ঘটনায় চরম আতংক বিরাজ করছে নগরবাসীর মধ্যে। সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

