" />
AmaderBarisal.com Logo

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নেতারা

‘অবৈধ কর্মপরিষদ গঠনের জন্য মেয়র ও অধ্যক্ষ দায়ী’


আমাদেরবরিশাল.কম

২২ June ২০১১ Wednesday ১:২১:২৮ AM

ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বরিশাল

ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বরিশাল – ফাইল ফটো

বরিশাল :: বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচন এড়িয়ে শুধু ছাত্রলীগের একাংশকে নিয়ে বিকল্প ছাত্র কর্মপরিষদ গঠন করায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রলীগের ক্ষুদ্ধ একটি অংশসহ ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্রদল ও  ছাত্র শিবির সহ একাধিক সংগঠন কর্মপরিষদ প্রত্যাখান করে জানিয়েছে, কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস বাকসু সংবিধান লংঘন করে ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডারদের পূনর্বাসন করেছে। ছাত্রলীগের ক্ষুদ্ধ অংশটি আজ ২১ জুন সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা অবৈধ কর্মপরিষদ গঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে ২১ জুন বিকেলে নগরীর একটি রেস্টেুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক মাকসুদ আলম মাসুদ ও রফিক সেরনিয়াবাত এক সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছে, সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক শওকত হোসেন হিরণ নগর ভবনে বসে কর্মপরিষদের রূপরেখা করেন এবং তার অনুসারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের নিয়ে অবৈধ এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএম কলেজে অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাস, স্টাফ কাউন্সিলের সম্পাদক এএসএম কাইউম হোসেন ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান স.ম ইনামুল হাকিম এ ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। তাদের অপসারন দাবী করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, মইন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত বিএম কলেজের নিয়মিত ছাত্র নয়। অথচ বাকসুর সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে ক্রান্তিকালে প্রতিনিধি পরিষদ গঠন করা হলে সকল সংগঠনের দুইজন করে প্রতিনিধি সদস্য হিসাবে রাখতে হবে এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের অবশ্যই নিয়মিত ছাত্র থাকতে হবে।

কর্মপরিষদ প্রত্যাখান করে শপথ না নেওয়া ৩ ছাত্রলীগ কর্মী ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মিলন ভূইয়া, মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ন আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, তৌহিদুর রহমান ছাবিদ, মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্যান্যরা।

অপরদিকে কর্মপরিষদে ছাত্র ইউনিয়নের একজন প্রতিনিধি রাখা হলেও তারা ওই কমিটি প্রত্যাখান করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্বাচন এড়িয়ে মনোনীত কমিটি তারা কখনই মেনে নেবেন না। কলেজ প্রশাসন তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তাদের প্রতিনিধির নাম ঘোষণা দেওয়ায় নিন্দা জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। এ অবৈধ কমিটির সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন।

প্রসঙ্গত, ২০ জুন আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস হটাৎ করেই স্টাফ কাউন্সিলের জরুরী সভা ডেকে বিএম কলেজের ছাত্র সংসদ (বাকসু)’র সংবিধান সংশোধন করেন। এরপর তরিঘরি করে ছাত্রলীগের কিছু চিহ্নিত ক্যাডারদের নিয়ে বিকল্প ছাত্র কর্ম পরিষদ ঘোষণা করে সাথেসাথেই শপথ বাক্য পাঠ্য করানো হয়। ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ন আহ্বায়ক মইন তুষারকে ভিপি ও নাহিদ সেরনিয়াবাতকে এ পরিষদের জিএস করা হয়। এ দু’জনই বিসিসি শওকত হোসেন হিরনের কট্টর সমর্থক ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য সমালোচিত। কর্মপরিষদের অপর ২৩টি সদস্য পদের মধ্যে ছাত্রমৈত্রীর ২জন এবং জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রসমাজের একজন করে প্রতিনিধি রেখে এ কর্মপরিষদকে নামেমাত্র সর্বদলীয় করা হয়।

এ পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে ঘোষিত কর্মপরিষদের সাহিত্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শিশির, সমাজসেবা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সেরনিয়াবাত ওরফে অনিক, সহ-পরিবহন সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে বাবু সেরনিয়াবাতসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে রাতে নবগঠিত এ কর্মপরিষদকে অগণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থপরিপন্থি দাবী করে সহ-ম্যাগাজিন সম্পাদক আতিকুল্লাহ মুনিম, সহ-পরিবহন সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে বাবু সেরনিয়াবাত এবং সমাজসেবা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সেরনিয়াবাত ওরফে অনিক পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের কথা স্বীকার করে ছাত্রলীগের কর্মী গোলাম মোস্তফা সেরনিয়াবাত বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম নির্বাচন। কর্মপরিষদ গঠনের পরিকল্পনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না, শপথও নিইনি। তারপরও আমাকে বিতর্কিত করতে অগণতান্ত্রিক পন্থায় গঠিত ওই কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।’ এদিকে ছাত্র ইউনিয়ন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, অগণতান্ত্রিক পন্থায় গঠিত কর্মপরিষদের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই।

বি এম কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক এস এম কাইয়ুম উদ্দীন আহমেদ জানান, ছাত্রসংসদের সংবিধান সংশোধন করে সেই আদালে ছাত্র কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে না ডাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোকে ডাকা হয়েছিল কিন্তু তারা আসেনি।

এ ব্যাপারে কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক সেরনিয়াবাত বলেন, ‘অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এ এস এম কাইউম উদ্দিন আহমেদ একটি অগণতান্ত্রিক কর্মপরিষদ গঠন করেছেন। ছাত্র সংসদের তহবিলের অর্থ আত্মসাতের জন্য সংবিধান সংশোধন করে এ পরিষদ গঠন করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ছাড়া গঠনতন্ত্র সংশোধন অবৈধ।’

এদিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর আলম মঞ্জু তাদেরকে পরিষদে ডাকার কথাকে কতিপয় শিক্ষকের মিথ্যাচার আখ্যা দিয়ে বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ সম্পুর্ন অন্যায়ভাবে এই পরিষদ গঠন করেছেন। যার কোন সংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি নেই। সরকারী দলের সুযোগ সুবিধা নিতে কলেজ অধ্যক্ষ এই পরিষদ গঠন করেছেন। এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মঞ্জু।

এদিকে সোমবার কর্মপরিষদ গঠন হলে ২০০৩ সালের পর আজ ২১ জুন বাকসু ভবনের তালা খোলা হয়েছে। নবগঠিত বিতর্কিত কমিটির নেতারা আজ বাকসু ভবনের তালা খুলে ভিতরে বসেন। অভিযোগ উঠেছে, বাকসু’র তহবিলে জমা সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বরিশালের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে তরিঘরি করে অবৈধভাবে এ পরিষদ গঠনের করা হয়েছে।



সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।