![]() জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকোটেশেবাচিমের ফরেনসিক বিভাগ নিজেই ‘ইমারজেন্সি’!নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ August ২০১৪ Sunday ৪:৫২:৪৭ PM
এ অবস্থায় ঝিমেতালে কোন ভাবে চলছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের কার্যক্রম। বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ যেন নিজেই ‘ইমারজেন্সি’ অবস্থার মধ্যে পড়েছে। শেবাচিম কলেজের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক, দুজন সহকারী অধ্যাপক, তিনজন লেকচারার ও একজন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও শুধু একজন সহকারী অধ্যাপক (ডাঃ আকতারুজ্জামান) দিয়েই চলছে এ বিভাগের কার্যক্রম। এছাড়া ভিকটিম পরীক্ষার জন্য একজন মহিলা চিকিৎসক ডাঃ সুমি আক্তার রয়েছেন। তবে তিনি উদয়কাঠী সাব সেন্টার থেকে এখানে ডেপুটেশনে আছেন। অন্যদিকে ৮ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র একজন চিকিৎসক থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এ কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান- সপ্তাহে তিনটি লেকচার ক্লাস ও প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ২টা করে প্রতি বর্ষের ক্লাস থাকলেও শিক্ষকের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী সুদিপ্ত মন্ডল জানান- ফরেনসিকে একজন শিক্ষকই সব ক্লাস নেন। ফলে প্রতিনিয়ত কোন না কোন ব্যাচের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে ফরেনসিক বিভাগের অন্তরভূক্ত একটি মর্গ থাকলেও নেই লাশ কাটার ডোম, লাশ সংরক্ষণের জন্য রেফ্রিজারেটর। লাশ কাটার ঘর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা থাকলেও তার কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ক্রয়কৃত অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ১২ টি লাশ সংরক্ষণের যে দুটি মরচুয়ারী মেশিন (ফ্রীজ) রয়েছে তাও বছরের অধিকাংশ সময় ধরে নষ্ট হয়ে আছে।
১৯৬৮ সালে বরিশাল জেলায় ময়না তদন্তের জন্য প্রথম ডোম নিয়োগ দেয়া হয় সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকে। সেসময় সরকারিভাবে গণেশ জং নামে এক ডোমকে দেয়া হয় লাশকাটার দায়িত্ব। ১৯৮১ সালে সে অবসর নিলে ডোমশূন্য হয়ে পড়ে সিভিল সার্জনের দপ্তর। ১৯৮১ সালে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের আওতায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে চালু হয় মর্গ ও মৃত দেহ সংক্ষরণ বা লাশ কাটা ঘর। ওই সময় এনাটমি বিভাগের বাবুল, বসন্ত ও শিবু নামে তিনজন ডোমকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয় ফরেনসিক বিভাগে। ১৯৮৪ সালে শুরু হয় ময়না তদন্তের কার্যক্রম। তবে ওই বছর-ই এনাম কমিশনের মাধ্যমে ডোমের পদ বিলুপ্ত করেন তৎকালিন কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে এ পদটির আর দেখা মেলেনি। কিন্তু ঝাড়ুদার পদে থেকেই ডোমের কাজ চালিয়ে যায় বাবুল, বসন্ত ও শিবু। ২০০০ সালে ফরেনসিক বিভাগে কর্মরত ঝাড়ুদার বিজয় ডোমকে দায়িত্ব দেয়া হয় মর্গের। বর্তমনে ৪ জনের মধ্যে বর্তমানে বিজয় ঝাড়ৃদার পদে সরকারি বেতন পান। বসন্ত অসুস্থ থাকায় বর্তমানে তিনি এখানে আসেননা। বাকি দুজন মৃতব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ করেন। মাঝে মধ্যে বেওয়ারিশ লাশ এলে পুুলিশের পকেট থেকে সামান্য বকশিস দেয়া হয় এ দুজনকে। ডোম বাবুল বলেন- বংশীয় ডোম হলেও পদ ঝাড়ুদারের ছিল আর এখন তাও নেই। তারপরও এই হাত দিয়ে ২০ হাজারের বেশি লাশের ময়নাতন্তের কাজ (কাটা-ছেরা) করেছি। এদিকে ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল ফরেনসিক বিভাগের নতুন দ্বিতলি ভবনটি উদ্ভোধন হলেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে এটিতে কোন কাজ করা হচ্ছেনা। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান তালুকদার জানান- চিকিৎসক, সরঞ্জামাদি ও জনবল সংকটের কারণে লাশ কাটা-ক্লাশ নেয়াসহ ও ফরেনসিক বিভাগ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান- ডোম, জনবল ও যন্ত্রাংশের জন্য বারবার চিঠি চালাচালি করা হয়েছে তবে সমাধান হচ্ছেনা। ডোম পদ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক বিহীন ফরেনসিক বিভাগের এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে সমস্যা সমাধানে শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন কলেজ উপাধ্যক্ষ ডা. মাকসেমুল হক । সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

লাশ কাটার ডোম নেই। শিক্ষকদের ৮টি পদের মধ্যে ৭টি পদ-ই শূন্য। দীর্ঘদিন আকেজ আছে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের লাশ সংরক্ষনের মরচুয়ারী মেশিন ও ফ্রীজ। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব। এতে নতুন দ্বিতলি ভবনটি উদ্ভোধন হলেও কোন কাজ করা যাচ্ছেনা।
হাসপতাল সূত্রে জানাগেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গড়ে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০টি লাশ আসে ময়না তদন্তের জন্য। এসব লাশের কাটা-ছেঁড়া করেন দুইজন অবসরপ্রাপ্ত ঝাড়ুদার ও ১ জন ফরেনসিক বিভাগে কর্মরত ঝাড়ুদার। লাশ কাটার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খরচ বহন করতে হয় লাশ নিয়ে আসা পরিবারের সদস্যদের।