![]() দরকার পৃষ্ঠপোশকতারয়ানি গানের অপূর্ব সৃষ্টিধারা বিরল হয়ে এসেছেসুশান্ত ঘোষ ১৭ August ২০১৪ Sunday ৪:০০:৫৭ PM
বিষেতে হইয়া কাতর। বাসরেতে লক্ষিন্দর প্রাণ নহে স্থির কাল বিষে লক্ষীন্দরে পোড়ায় শরীর।’(পদ্মাপুরাণ) শ্রাবণ মাস ঘিরে সর্পদংশনে লক্ষীন্দরের শোকাবহ মৃত্যু,আর চান্দ সওদাগরের দুর্দশা,বেহুলার এক মহাসংগ্রাম এসবই সুরে ছন্দে শত শত বছর ধরে গীত হয়ে থাকে। এক সময়ে এই গীত ঘরে ঘরে দেখা গেলেও বর্তমানে এর চল অনেকটাই কমে এসেছে। দক্ষিণাঞ্চলে বিজয়গুপ্তের পদ্মাপুরাণের কাহিনী নিয়ে করুণ সুরে রাতে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে শিল্পীরা এই গান গেয়ে থাকে। এই গান রয়ানি বা রয়ানি যাত্রা নামে পরিচিত। সংস্কৃত রজনি থেকে রয়ানি নাম টি এসেছে । রজনীর অর্থ রাত।রয়ানি শিল্পীরা সাধারনত নিন্মবর্গীয় মানুষ। দিবাভাগের শ্রমশেষে রাতে এই করুন কাহিনী গীত হয় বলে এই গীত রয়ানি নামে প্রচলিত। রয়ানি কে অনেকে রয়ানি পালা বা রয়ানি যাত্রাও বলে থাকে। রয়ানি শিল্পীদল সাধারনত ১২ থেকে ২০ জনের দল হয়ে থাকে। প্রধান ব্যাক্তিকে বলা হয় সরকার। সহশিল্পীরা সানাই,করনেট, খোল, করতাল, হারমোনিয়াম দ্বারা প্রধান গায়েন কে সঙ্গত দেন। এ ছাড়া গানের ধুয়া দেয়ার জন্য আরো ৪/৫ জন থাকে। ধূয়া দেয়ার মধ্যে নারীরাই প্রধান। প্রথমে বন্দনা দিয়ে শুর, একে এক লক্ষীন্দরের জন্ম, বেহুলার বাড়ি, বেহুলার সাথে লক্ষীন্দরের বিয়ে, চান্দো সওদাগরের সাথে পূজা না দেয়াকে কেন্দ্র করে মনসার সাথে তার বিরোধ, মনসার ছলনায় চান্দোর সপ্ত বানিজ্য ডিঙ্গার ডুবে যাওয়া, লক্ষীন্দর সহ ৭ পুত্রের বিনাশ, অবশেষে বিয়ের বাসর রাতে বেহুলার স্বামী লক্ষীন্দরের বাসর রাতে মৃত্যু- বিলাপ ও সর্বশেষে বেহুলার স্বামীকে ফিরিয়ে আনা, মনসার পূজা লাভ কাহিনীকে এমন ভাবে বেধেছে যে বেহুলা লক্ষীন্দরের এই কাহিনী শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। রয়ানি ১ দিন ৩ দিন ও সাতদিন পর্য›ত হয়ে থাকে। রয়ানির প্রধান রস করুণ। সাধারনত লাচারি অনুসারে পরিবেশনার ঢং তাল লয় পরিবর্তিত হয়ে থাকে। বরিশাল বিভাগের উজিরপুর, ঝালকাঠী, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, বাকেরগঞ্জ, পিরোজপুর, ভোলা সহ বিভিন্ন স্থানে এই শিল্পীদের এখনও দেখা মেলে। এই রয়ানি গানে আগের মতো না হওয়ায় এর শিল্পীদল এখন দারুণ সংকটে। ‘এই রয়ানি গানে আমাদের খাওয়ার জোটে না । তাই আমাদের সারাবছর অন্যকিছু করতে হয়। আমরা প্রাণের টানে না এটা করি, বায়না পেলে না এসে পারি না।’-জানালেন মনসা সম্প্রদায়ের অন্যতম গায়েন ফণীভূষণ দাস। এই সম্প্রদায়ের খোলবাদক নিত্যানন্দ দাস জানান-‘ ৪০ বছর ধরে এই দলে খোল বাজাই। প্রতি রাতে আমাদের পারিশ্রমিক মাত্র ৫০০ টাকা। এই টাকায় আমাদের চলে না-আমি অন্যসময় তাই পানের ব্যবসা করি।’ রয়ানি দলের সরকার গৌড়্ঙ্গা চন্দ্র দাস জানান রয়ানি গান ৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বায়না নেয়া হয়ে থাকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বরিশাল বিভাগে মাত্র হাতে গোনা ১০/১২ টি দল রয়ানি গান পরিবেশন করতে সক্ষম। দরিদ্র শিল্পীর টিকতে না পারায় পেশা পরিবর্তন করায় রয়ানি গানের শিল্পীদল অনেকটা বিরল হয়ে গেছে। দীর্ঘ ৫২০ বছর পর্যন্ত এই রয়ানি গান টিকে থাকলেও শুধুমাত্র শিল্পীদের পৃষ্ঠপোশকতা না থাকায় এই সম্পদটি চির দিনের মতো হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রয়ানি গানের শিল্পীদের দাবী অবিলম্বে সরকার এই শিল্পীদের সহায়তায় এগিয়ে আসুক-তাহলে হয়ত বেচে যাবে গ্রামীন সমাজের এই ভাব সম্পদাট। সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

‘প্রিয়ে প্রিয়ে বলে কান্দেরে লখাই