" />
AmaderBarisal.com Logo

রমজান এলেই কদর বাড়ে বরিশালের মোটা মুড়ির (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক
আমাদেরবরিশাল.কম

২০ June ২০১৫ Saturday ৫:৪০:৫৬ PM

ইফতারে মুড়ির কদরই আলাদা। আবার সে মুড়ি যদি হয় বরিশালের মোটা মুড়ি, তাহলেতো কথাই নেই। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে চাহিদা পত্র আসে বিদেশ থেকে। এসবের যোগান দিতে স্থানীয় ১০ গ্রামের ৩০০ পরিবারের প্রায় দেড় হাজার সদস্যদের রাতের ঘুম মজে যায় প্রতিক্ষণে।

barisal-muri-puffed-rice বরিশালের মোটা মুড়িমাহে রমজান আসা মাত্রই সরগরম হয়ে ওঠে বরিশালের বুড়ির হাটের মুড়ি পল্লি। রাত দুটো বাজতেই মাটির হাড়ি পাতিলের টুং-টাং শব্দ, কখনোবা শিশুর কান্নার সাথে হাজারো মানুষের কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে জ্বলে ওঠে ৩০০ ঘরের ১২০০ চুলা আগুন। চলে ভেজা চালে লবন মেশানোর কাজ। চারমূখো চুলায় শুরু হয় চাল ও বালু ভাজার কাজ। এ সব দিয়েই তৈরি হয় বরিশালের মোটা বুড়ি।

বরিশাল-ঝালকাঠি সীমান্ত এলাকা বুড়ির হাট ও এর আশেপাশের ১০ গ্রামে মোটা মুড়ি বানানো হচ্ছে এক শ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে। অন্যসব পরিচয় হারিয়ে এসব গ্রাম বর্তমানে ‘মুড়ির গ্রাম’ নামে পরিচয় পেয়েছে দেশব্যাপী।

আড়তদারদের দেয়া ৫০ কেজি চালে মুড়ি হয় ৪৪ কেজি। এই মুড়ি বাজারে বিক্রি হয় কেজি প্রতি ৬৬টাকা দরে। তবে সব খরচ বাদে এখন মুড়ি ভাজায় লাভ কমে আসছে।

নারী শ্র্রমিক তাছলিমা বেগম জানান, মহাজনের (আড়তদার) দেয়া চাল ও জ্বালানী পেয়ে শুধু মাত্র ভেজে দিয়ে গড়ে ৫০ কেজি মুড়ি থেকে ৩০০/৪০০ টাকা আয় করেন তারা। তবে নিজেরা ধান কিনে মুড়ি ভেজে শহরে নিয়ে বিক্রি করতে পারলে দ্বিগুন আয় করা যায়।

শ্রমিকদের মতে, মুড়ি ব্যবসার সব লাভ লুটে খাচ্ছেন আড়তদারেরা। তাই মুড়ি শিল্পে জড়িতরা স্বাবলম্বি হতে ঋণ চায় সরকারের কাছে।

স্বাদে অতুলনীয় বলে বরিশালের বুড়ির হাটের মোটা মুড়ির খ্যাতি রয়েছে। তবে এ খ্যাতির সাথে ভেজাল মেশানোতে ইদানিং এর মান ধরে রাখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

বরিশালের বুড়ির হাট ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রতিদিন তৈরি হয় ২০০ মন মুড়ি, যা দেশের বিভিন্ন বাজারে চলে যায়। রমজান আসা মাত্র মুড়ির চাহিদা ১০০ মন বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আড়তদারেরা।

এতো সব সত্বেও এবারে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বরিশালের মোটা মুড়ি যাচ্ছে দেশের সীমানা পেরিয়ে সৌদি, কাতার, দুবাই, মালয়শিয়া, কুয়ালালামপুর সহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বরিশালের মুড়ি শিল্পকে ব্যাপকতা দিয়ে তা কর্মসংস্থানের দুর্গে পরিনত করা যাবে বলে এখানকার শ্রমিকদের ধারণা।



সম্পাদনা: বরিশাল ডেস্ক


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।