Current Bangladesh Time
Monday August ২৪, ২০২৬ ১২:২৩ PM
Barisal News
Latest News
Home » গলাচিপা » পটুয়াখালী » লোকসানের ঘানি আর টানতে পারছেন না গলাচিপার আলু চাষী
২৯ March ২০২৬ Sunday ৭:১৮:০২ PM
Print this E-mail this

লোকসানের ঘানি আর টানতে পারছেন না গলাচিপার আলু চাষী


গলাচিপা ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থার অভাবে আলু চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। লোকসানের ঘানি টানতে টানতে গত তিন বছরে উপজেলায় আলু চাষের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় কোনো হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত ফসল ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বাধ্য হয়ে পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গলাচিপায় প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিলো। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩৬০ হেক্টরে। চলতি ২০২৬ মৌসুমে ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে মাত্র ২৬০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৫ হেক্টর কম জমিতে চাষ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে সার, বীজ ও শ্রমিক বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি বিঘার আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়। এতে প্রতি বিঘায় কৃষকদের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামের কৃষক মো. মিলন হাওলাদার বলেন, এভাবে লোকসান দিয়ে আলু চাষ করা সম্ভব না। আমরা ন্যায্য দাম পাচ্ছি না, আবার আলু রাখার জায়গাও নেই। এলাকায় একটা হিমাগার থাকলে আমরা আলু ধরে রাখতে পারতাম।

গলাচিপার মাটি ও ভৌগোলিক অবস্থান আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় আশির দশক থেকেই এখানে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ শুরু হয়। বিশেষ করে উপজেলার মুরাদনগর, বোয়ালিয়া ও চরখালী গ্রামে সবচেয়ে বেশি আলুর ফলন হয়। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২৫ টন আলু উৎপাদন হলেও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে কৃষক তা কাজে লাগাতে পারছেন না। পাইকারি ক্রেতারাও এলাকায় না আসায় সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার জানান, দ্রুত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও কমে যেতে পারে। তিনি মনে করেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত একটি হিমাগার স্থাপন করা হোক। এতে একদিকে কৃষকরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে দেশের আলুর ঘাটতি পূরণেও বড়ো ভূমিকা রাখতে পারবে এই উপজেলা। শুধু তাই নয়, বাঁচবে কৃষি ও কৃষক।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী
হুমকিতে লক্ষাধিক মানুষ: কুয়াকাটার বেড়িবাঁধে ভাঙন
শপথ নিলেন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন পার্থসহ চারজন, রাতে শপথ
বরিশালের ১৯ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com