Home » উজিরপুর » বরিশাল » উজিরপুরে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ধামাচাপা দিতে ১৫ হাজার টাকা ও ‘জুতার আঘাতে’ সালিশ!
১ July ২০২৬ Wednesday ১০:১৫:০৫ PM
উজিরপুরে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ধামাচাপা দিতে ১৫ হাজার টাকা ও ‘জুতার আঘাতে’ সালিশ!
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের মধ্য শোলক গ্রামে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিযুক্তকে প্রতীকীভাবে এক জুতার আঘাত করা হয় এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মধ্য শোলক গ্রামের মৃত মোসলেম আলী খানের ছেলে ও তিন সন্তানের জনক মনির হোসেন স্থানীয় এক অসহায় পরিবারের প্রতিবন্ধী তরুণীকে একটি পানবরজে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তরুণীর চিৎকার শুনে পাশের এক গৃহবধূ ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্ত দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্দেশ্যে আলাউদ্দিন চকদারের ছেলে হেমায়েত চকদার, সালাম আলী হাওলাদারের ছেলে মোহল কামাল, মৃত মালেক হাওলাদারের ছেলে খোসরু এবং ছরোয়ার খানের স্ত্রী তাছলিমা অভিযুক্ত মনির হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। সেখানে অভিযুক্তকে প্রতীকীভাবে এক জুতার আঘাত করা হয় এবং ভুক্তভোগীর মায়ের হাতে ১৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে বিষয়টি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করে বলেন, “আমি ওই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানাই। এরপর আমাকে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, মনির হোসেন এর আগেও একবার তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মোহল কামাল বলেন, “আমরা শুধু মীমাংসার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। এর বেশি কিছু জানি না। বিষয়টি হেমায়েত চকদার ভালো বলতে পারবেন।”
হেমায়েত চকদার বলেন, “পাঁচ বছর আগের একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমি সালিশের শেষ পর্যায়ে সেখানে গিয়েছিলাম। শুরু থেকেই বাদীপক্ষকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও নারীদের উত্ত্যক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্য শোলকসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)