পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গত দুই মাসে হত্যা, আত্মহত্যা, বজ্রপাত, মাটিধস, বিদ্যুৎস্পর্শ ও পানিতে ডুবে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে ২৪ মে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামের ইউসুফ শরীফ ও একই দিনে টিকিকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুমের হত্যাকাণ্ড এবং ৩০ মে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে মাটিচাপায় রশিদ ব্যাপারী ও সাগর হাওলাদারের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
রশিদ ব্যাপারী ও সাগর হাওলাদার ম্যাগনেটিক পিলারের সন্ধানে মাটি খুঁড়তে গিয়ে নিহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে খুন হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে থানা পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করে।
এছাড়া উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামের একাধিক মামলার আসামি ইউসুফ শরীফ লোক সম্মুখে খুন হলেও পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনেও সক্ষম হয় থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামের আরাফাত নামে এক যুবকের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চেষ্টার অভিযোগে ইউসুফ শরীফকে দিনদুপুরে কুপিয়ে খুন করে আরাফাত।
এছাড়া পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম মাদকাসক্ত হওয়ায় তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মা মিনারা বেগম কুঠার দিয়ে আঘাত করে ছেলেকে হত্যা করে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ কাইয়ুমের মা মিনারা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি ছেলে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া তুষখালীর জানখালী গ্রামের নবী হোসেন মোল্লার পুত্র মো. হাসান মোল্লার লাশ ২ মে নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ৬ মে শহরের ৫নং ওয়ার্ডের গয়ালীপাড়া (কল্লাকাটা) ব্রিজ সংলগ্ন ভাড়া বাসায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সুখী রানী নামে এক নারী। ১০ মে উপজেলার উত্তর মিঠাখালী নিজ বসতঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মোসা. খালেদা বেগম নামে অপর আরেক নারী।
এছাড়া ১৭ মে বসত ঘরসংলগ্ন পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যান উপজেলার উদয়তারা বুড়িরচর এলাকার কামাল মোল্লার দেড় বছরের শিশুপুত্র আলভী। ২৩ মে দুপুরে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন শাহাদাৎ হোসেন (২৫) নামে এক যুবক। ২৯ মে পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায় বাদুরতলী গ্রামের হাসান গাজীর ১৭ মাসের শিশুপুত্র মো. রায়হান গাজী।
এছাড়া ১ জুন গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা যান উপজেলা বেতমোর ইউনিয়নের জানখালী গ্রামের আমিন হাওলাদারের পুত্র মো. রিয়াজ হাওলাদার (৪০)। ৫ জুন দুপুরে বজ্রপাতে মারা যান উত্তর সোনাখালী গ্রামের মৃত আবুল হাসেম জমাদ্দারের পুত্র মো. সোহরাব জমাদ্দার। ৬ জুন বিকালে চালের পোকা নিধন ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন বেবী বেগম (৫০) নামে এক নারী।
এছাড়া দাউদখালী গ্রামের রুস্তম গাজীর পুত্র মামুন গাজী (৩০) চালের পোকা নিধন ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বরিশাল নেওয়ার পথে মারা যান। ১৫ জুন বিষপানে আত্মহত্যা করেন পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কামরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া উত্তর পাতাকাটা গ্রামের আসাদুল হাওলাদারের পুত্র রাকিব (২০)।
১৭ জুন উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের কচুবড়িয়া গ্রামে দুলাল আকনের চার বছরের পুত্র মো. ইসা পানিতে ডুবে মারা যায়। ১৮ জুন দুপুরে উপজেলার উত্তর সোনাখালী গ্রামে আব্দুল কুদ্দুস নামে এক নির্মাণ শ্রমিক বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান।
অপরদিকে ১৯ জুন উপজেলার ভেচকী গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসা দুই ভাই আব্দুর রহমান (৮) ও আব্দুর রহিম (৩) পানিতে ডুবে মারা যায়।
দুই মাসে ১৯ জনের লাশ উদ্ধারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মঠবাড়িয়া থানার ওসি জানান, এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)