ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের ডহরশংকর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন স্থানীয়রা।এখনো কাজ বন্ধই আছে। এনিয়ে প্রকৌশল বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন সেতুর কাজে শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চলছে। নকশা ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড উপেক্ষা করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, সেতুর পাইলিংয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৬০ ফুটের পরিবর্তে মাত্র ১৫ ফুট পাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ব্ল্যাক স্টোনের পরিবর্তে হোয়াইট স্টোন, সিলেটি বালুর পরিবর্তে স্থানীয় বালু এবং ২০ মিলিমিটার রডের পরিবর্তে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার করা হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পানির নিচে ঢালাই কাজ করা হয়েছে, যা নির্মাণকাজের মান নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, কাজের সময় উপজেলা প্রকৌশলীর প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তার অনুপস্থিতিতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কাজ চালিয়ে আসছিল।
স্থানীয়দের দাবি, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দিলে ঠিকাদার ঘটনাস্থলে এসে উল্টো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং একইভাবে কাজ সম্পন্ন করবেন বলে হুমকি দেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি জননিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে নির্মাণকাজের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত এ সেতুর কাজ শুরু করিনি। ঠিকাদার কেন আমাদের না জানিয়ে কাজ শুরু করেছেন, সে বিষয়ে তাকে নোটিশ দিয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।
ওই কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবুল বাসার বলেন, ব্রিজের কাজের আদেশ অনেক আগেই দেওয়া হয়েছিল। যার মেয়াদ গত ১৫ জুন শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে এবং আমাদের না জানিয়েই কাজ শুরু করেন। আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
উপজেলা প্রকৌশ্রলীর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ও তদারকি ছাড়াই কীভাবে সরকারি প্রকল্পের কাজ শুরু হলো এবং কার ছত্রচ্ছায়ায় এতদিন তা চলতে থাকল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার রাজাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম মৃধা প্রকৌশলীদের বক্তব্য অসত্য দাবি করে জানান, কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে আমরা মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছি। আরও তিন মাস সময় আমরা পাবো। কাজের লে-আউট করার সময় এসও আবুল বাসার উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, আমাদের কাজ কেউ বন্ধ করেনি। ভারী বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমরাই কাজ করিনি। রোববার ব্রিজের পাইল বসানো হবে। আপনাদের (সাংবাদিকদের) দাওয়াত। এসে দেখে যাইয়েন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল আগমন: চার দাবি পূরণের আশায় বুক বেঁধেছে বরিশাল
আগামীকাল বরিশাল আসছেন প্রধানমন্ত্রী
স্বাস্থ্যের পরিচালককে নিয়ে বরিশাল ড্যাবের প্রকাশ্যে গ্রুপিং, স্বাস্থ্য বিভাগে অস্থিরতা