Home » বরিশাল » বরিশাল সদর » সিটিস্ক্যান মেশিনে ঘুম: শেবাচিমের সেই টেকনিশিয়ানের দায়িত্ব স্থগিত
৬ October ২০২৬ Tuesday ১:৪৬:৩১ PM
সিটিস্ক্যান মেশিনে ঘুম: শেবাচিমের সেই টেকনিশিয়ানের দায়িত্ব স্থগিত
নগর প্রতিনিধি:
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে থাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) মো. ইসমাইল হোসেনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর সোমবার (৫ অক্টোবর) এই নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু জাকারিয়া খান।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। যাতে হাসপাতালের শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুঈন উদ্দিন তালুকদারকে সভাপতি, রেডিওলজি বিভাগের ডা. বিপ্লব মণ্ডলকে সদস্য এবং প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. মাঈদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিউটিরত অবস্থায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) মো. ইসমাইল হোসেন সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর ঘুমিয়ে থাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় হাসপাতালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে শেবাচিম হাসপাতালে বাবার বুকের সিটিস্ক্যান করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন মো. আব্দুল হামিদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি দেখতে পান, সিটিস্ক্যান কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী মেশিনের ওপর শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। এ সময় ওই কর্মচারী দাবি করেন, তিনি বুকের সিটিস্ক্যান করতে পারেন না।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করে গত শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন আব্দুল হামিদ।
ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিটিস্ক্যান রুমের কর্মকর্তা মেশিনের ওপর রেস্ট করতেছেন। তিনি এখন কাজ করতে পারবেন না। কারণ তিনি বুকের সিটিস্ক্যান করতে নাকি পারেন না। আমার প্রশ্ন হলো তাহলে উনার কাজ কী?’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। সরকারি হাসপাতালে একজন রোগীর গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করাতে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর এমন আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। একই সঙ্গে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। পরদিন রোগীর চেস্ট সিটিস্ক্যান সম্পন্ন করা হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪ মিনিটে আব্দুল হামিদ ফের একটি ভিডিও আপলোড করে জানান, শেষ পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে তার বাবার চেস্ট সিটিস্ক্যান সম্পন্ন হয়েছে।
ভিডিও আপডেটে তিনি লেখেন, ‘অবশেষে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খুব যত্ন সহকারে চেস্ট সিটিস্ক্যান সম্পন্ন করলাম।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আপনি যদি অন্যায় দেখে চুপ থাকেন তাহলে অন্যায়কারী আপনার প্রতি আরও জুলুম করবে। আপনি যদি প্রতিবাদ করেন তাহলে সম্মান ফিরে পাবেন। গতকালকে আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলাম আজকে সম্মানের সঙ্গে আমাদেরকে গ্রহণ করেছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। ধন্যবাদ মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে।’
সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিতে কর্মচারীদের যথাযথ দায়িত্ব পালন ও কোনো গাফিলতি হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে সবজির বাজার চড়া, বেড়েছে মাছের দামও
শেবাচিম হাসপাতাল: পাঁচ হাজার রোগীর জন্য মাত্র ১৩টি ট্রলি
বরিশালে পঞ্চম দিনের মতো এলপি গ্যাসশূন্য
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক মাত্র ১৮ ফুট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি