• কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অব্যবহৃত থাকছে।
ভোলা প্রতিনিধি:
দ্বীপ জেলা ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জনবল সংকটে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চালু করা যায়নি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিট। ছয় শয্যার এই ইউনিটের কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো বছরের পর বছর ব্যবহার না করায় অকেজো হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট থাকলেও তা বন্ধ থাকায় সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
ভোলার ২৫০ জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটিতে ২০২১ সালের ২৯ জুলাই স্থাপন করা হয় আইসিইউ ইউনিট। কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার (সিএমএসডি) থেকে ছয়টি আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু আইসিইউতে রোগীদের সেবা দেওয়ার মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্সসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সহায়ক জনবলের সংকট রয়েছে। এর ফলে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে আইসিইউ ইউনিটটি।
হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট বন্ধ থাকায় ভোলার মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য বরিশাল কিংবা ঢাকায় নিয়ে যেতে হচ্ছে। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর দাবিতে গত বুধবার দুপুরে হাসপাতালের সামনে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান সদর উপজেলার বাসিন্দা নয়ন। তাঁর দাবি, ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং আইসিইউ সেবা না থাকায় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতি যেন অন্য কোনো রোগীর পরিবারকে মোকাবিলা না করতে হয়, সে জন্য হাসপাতালে দ্রুত আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর দাবি জানান তিনি।
আরেক রোগীর স্বজন মো. আরিফ বলেন, গত বছরের শেষ দিকে তাঁর এক আত্মীয় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। চিকিৎসকেরা তখন আইসিইউতে নেওয়ার কথা জানান। কিন্তু হাসপাতালে সেই ব্যবস্থা না থাকায় রোগীকে দ্রুত বরিশালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বরিশালে নেওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু হয়। ভোলার হাসপাতালে আইসিইউ চালু থাকলে হয়তো রোগীকে বাঁচানো যেত বলে মনে করেন আরিফ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় ছয় শয্যার আইসিইউ ইউনিটের প্রধান কাচের ফটকে দুটি তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কাচের ফটক দিয়ে দেখা যায়, ভেতরে আছে আইসিইউর ছয়টি শয্যা। বছরের পর বছর অব্যবহৃত আইসিইউর শয্যাগুলোয় ধুলাবালু জমেছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. আরাফাতুর রহমান বলেন, হাসপাতালটিতে আইসিইউ সেবা চালু না থাকায় প্রায়ই ডেঙ্গু, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট কিংবা দুর্ঘটনায় আহত গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালেও ডেঙ্গু আক্রান্ত গুরুতর অসুস্থ রোগীকে বাধ্য হয়ে বরিশালের হাসপাতালে রেফার করতে হয়েছে। ডা. আরাফাতুর রহমান আরও বলেন, আইসিইউ ইউনিট চালু করতে হলে দক্ষ চিকিৎসক-নার্স এবং তাঁদেরকে সহযোগিতা করার জন্য পর্যাপ্ত জনবল দরকার। হাসপাতালে সেই জনবল নেই। ফলে আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা যাচ্ছে না।
ভোলা সদরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত জনবল এবং চিকিৎসাসামগ্রী না থাকায় আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে অবহিত করা হলেও কোনো কাজ হয়নি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)