Current Bangladesh Time
Thursday October ২৯, ২০২৬ ২:২৫ PM
Barisal News
Latest News
Home » বরিশাল » বরিশাল সদর » সংবাদ শিরোনাম » বিএম কলেজের ছাত্রাবাসে গভীর রাতে উত্তেজনা, মুখোমুখি ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীরা
২৯ October ২০২৬ Thursday ১:০৯:০৩ PM
Print this E-mail this

বিএম কলেজের ছাত্রাবাসে গভীর রাতে উত্তেজনা, মুখোমুখি ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীরা


নগর প্রতিনিধি:

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সভাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, কাজের মান এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে তাঁরা সভার আয়োজন করেন। সেখানে ছাত্রদল নেতারা উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিলে তাঁদের কাছে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ করার কারণ জানতে চান শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সভায় বহিরাগতদের প্রবেশ ও ছাত্রাবাসের সিসিটিভি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রাবাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে তাঁদের সভা শুরু হয়। সভার আলোচ্যসূচিতে ছিল সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক নির্মাণকাজ, বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় ব্লকভিত্তিক ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন এবং পিকনিকের আয়োজন।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ছাত্রাবাসের সড়কে ঢালাই দেওয়ার শেষ পর্যায়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁদের প্রশ্ন, কাজের মান নিয়ে আপত্তি থাকলে আগে কেন তা জানানো হয়নি? ঢালাইয়ের শেষ মুহূর্তে কাজ বন্ধ করার কারণ কী এবং কবে আবার কাজ শুরু হবে?

সভা চলাকালে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জুবায়ের হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন সেখানে উপস্থিত হন। রাত পৌনে ১১টার দিকে সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বক্তব্য দিতে শুরু করলে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধের কারণ ও কাজ শুরুর সময় জানতে চান।

জবাবে ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়েছে। শতভাগ মানসম্মত কাজ বুঝিয়ে না দিলে ঠিকাদারকে বিল নিতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া ব্লকভিত্তিক কমিটি গঠনের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ঠিকাদারের সঙ্গে সমন্বয় করে চলছেন।

একপর্যায়ে সভাকক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন বহিরাগত প্রবেশ করে হৈচৈ শুরু করেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতারা আলাদা অবস্থান নেন। এ সময় ছাত্রাবাসের এক কর্মীর কাছ থেকে চাবি ছিনিয়ে নেওয়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, উত্তেজনার সময় কয়েকজনের হাতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠ ও লাঠিসোঁটা দেখা গেছে।

অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের এ ব্লকের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আকবর মুবিন বলেন, ছাত্রাবাসের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও পিকনিকের আয়োজন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সভা ডেকেছিলেন। সেখানে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে বহিরাগতরা কেন প্রবেশ করবেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রাবাসের কর্মীর কাছ থেকে চাবি নিয়ে সিসিটিভির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থার ক্ষতি করা হয়েছে।

আকবর মুবিন আরও বলেন, বন্ধ করে দেওয়া সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। নিজেদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হতে চান। তবে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা এই উদ্যোগকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, বুধবার ছাত্রাবাসে একটি সভা ছিল। সেখানে শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে আসে। ছাত্রাবাসে বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁরা এমন অভিযোগ শুনেছেন, তবে কোনো বহিরাগতকে পাননি। সিসিটিভি ক্যামেরার তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। সড়ক নির্মাণকাজের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরাও চান কাজটি সম্পন্ন হোক।

রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যান নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহফুজ। তিনি বলেন, ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়।

কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ বলেন, ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে তিনি পুলিশ পাঠান। এ সময় সহকারী সুপারও ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতপার্থক্য হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা সভা করছিলেন, সেখানে ছাত্রদল নেতারা যান। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা নেতাদের সঙ্গে বহিরাগত আসার অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে কোনো বহিরাগতকে পায়নি।

ওসি আরও বলেন, ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা নিয়েই মূলত মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা কাজটি শেষ করার দাবি জানান। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিএম কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের সড়কে ঢালাই দেওয়ার শেষ মুহূর্তে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ নিয়ে ওই দিন আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ‘কাজের মান নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, কলেজের সড়কের ঢালাই বন্ধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
সমাজে মাদক সেবনের মাত্রা প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে: মনজুর মোর্শেদ
বিএম কলেজের ছাত্রাবাসে গভীর রাতে উত্তেজনা, মুখোমুখি ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীরা
বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে পৌর টোলের নামে অর্থ আদায়
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ঘিরে বরিশালের উপকূলে সতর্কতা, পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত
বরিশালের ৩ কমিটি: যুবদলে ১০ বছর ধরে ঘুরেফিরে একই নেতৃত্ব
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com