Home » দশমিনা » পটুয়াখালী » নির্বাচন অফিসে ঢুকে ঘুসের ৩ লাখ টাকা ফেরত চাইলেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা
৫ November ২০২৬ Thursday ১০:২৯:৫৬ PM
নির্বাচন অফিসে ঢুকে ঘুসের ৩ লাখ টাকা ফেরত চাইলেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা
দশমিনা ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দশমিনায় অফিসে ঢুকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদারের কাছে ঘুসের ৩ লাখ টাকা ফেরত চেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা।
বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন বিকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তাকে বাঁচাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় একাধিক মহল তদবির করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের ৫৫নং দক্ষিণ খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র। ওই ভোটকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন করে একই ওয়ার্ডের খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র পুনঃস্থাপনের জন্য এমএ সজীব আহমেদ নামে এক ব্যক্তি আবেদন করেন।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হারুন ব্যাপারী বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঢোকেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদারের সামনেই দাবি করেন, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদনের পর তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পূর্বের জায়গায়ই ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার দাবি জানান। দাবি জানানোর পর নির্বাচন কর্মকর্তা পূর্বের জায়গায়ই ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার আশ্বাস দেন এবং একদিন ফোন করে তার কাছে ভোটকেন্দ্র বহালের জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন।
ভাইরাল ভিডিওতে ওই গণঅধিকার পরিষদ নেতার দাবি, তিনি কালাম পাঞ্চায়েত নামে অন্য এক গণঅধিকার পরিষদ নেতার মাধ্যমে নির্বাচন কর্মকর্তাকে কিছু টাকা ঘুস দেন এবং বাকি টাকা তিনি নিজেই অফিসে গিয়ে দিয়ে আসেন। পরে ৮ অক্টোবরের খসড়া ও ২৭ অক্টোবরের চূড়ান্ত তালিকায় ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা হয়; কিন্তু এমএ সজীব আহমেদ নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ২ নভেম্বর ভোটকেন্দ্র বহাল বাতিল করে সজীবের পছন্দের জায়গায় পুনঃস্থাপন করা হয়। এতে গণঅধিকার পরিষদ নেতা মো. হারুন ব্যাপারী ক্ষুব্ধ হয়ে নেতাদের নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে গিয়ে টাকা ফেরত চান এবং সেই সময় ভিডিওতে নির্বাচন কর্মকর্তাকে চুপ থাকতে দেখা যায়।
ভাইরাল ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কালাম পঞ্চায়েত নামে এক গণঅধিকার পরিষদ নেতা নির্বাচন কর্মকর্তার সামনেই বলছেন, তিনি নির্বাচন কর্মকর্তাকে তার হাত দিয়ে যে ঘুস দিয়েছেন তা তিনি আগেই ফেরত নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা বা না রাখা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাজ, আমার না। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের দাবি অসত্য। তিনি কারও থেকে কোনো টাকা নেননি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়ালে পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সী বৃহস্পতিবার সকালে দশমিনা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সত্য হলে তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন। নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
নিত্য মৃত্যুর ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক: একনেকে ঠাঁই হয়নি ছয় লেন প্রকল্পের
বরিশালে খাল খননে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প
এইচএসসিতে সবাই ফেল, বরিশালের ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ
বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক: টোলের নামে ৬ পয়েন্টে কোটি টাকার চাঁদাবাজি