" />
AmaderBarisal.com Logo

মল-মূত্র খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল

বামনা প্রতিবেদক
আমাদেরবরিশাল.কম

২৮ August ২০১৭ Monday ৬:০৯:২২ PM

ভাবীর মল-মূত্র খাওয়ানোর ভিডিও ভাইরাল, পিতাপুত্র হাজতেতাবিজ ও জাদুটোনা করে ক্ষতি সাধনের সন্দেহে ছোট ভাইকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে বড় ভাই, ভাইপো ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় জোরপূর্বক তাকে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর (ভাবী) মলমূত্র খাওয়ানো হয়। এ নির্যাতনের চিত্র স্থানীয়রা মোবাইলে ধারণ করে পরে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং মূহর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় ফেসবুকে। ভিডিও টি ছড়িয়ে পড়ে মোবাইল থেকে মোবাইলে।

জঘন্যতম এ ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামে গত বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার সময়।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভূক্তভোগী ইউনুস বাদী হয়ে তার বড় ভাই এবং ভাতিজাকে আসামী করে বামনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শনিবার এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ মামলার প্রধান আসাাম ভাতিজা সোহাগকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।

রবিবার (২৭ আগস্ট) মামলার অপর আসামি সোহাগের পিতা আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক জমিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকেও জেলহাজতে পাঠায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের মৃত আদম আলী মল্লিকের ছেলে মো. ইউনুস (৩৫) এলাকায় একজন মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। আপন বড় ভাই মো. ইসমাইলের সঙ্গে তার পারিবারিক দ্বন্ধ চলছিল।

বৃহস্পতিবার বড় ভাই মো. ইসমাইল (৪৪) এবং তার স্ত্রী পারুল বেগম (৩৫) ও ছেলে সোহাগ (২২) জাদু টোনার মাধ্যমে ক্ষতিসাধনের অভিযোগ এনে ইউনুসকে তার মা ও শিশু সন্তানদের সামনে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে প্রথমে বেদম প্রহর করে। এর পরে বোতলে পারুল বেগমের মলমূত্র ভরে তাকে জোরপূর্বক খাওয়ায় পিতাপুত্র।

এতে ইউনুস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সে এখনও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সময় ইউনুসের মা রাজিয়া বেগম (৬৫) কে একটি ঘরে বন্দি করে রাখে ভাতিজা সোহাগ।

এ সময় বাবাকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ইউনুসের মেয়ে রুপালীও আহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বামনা থানা পুলিশ।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়ে নির্যাতনকারীরা। তবে নির্যাতনকারী ইসমাইলের ছেলে সোহাগকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পূর্ব সফিপুর এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

নির্যাতনের শিকার ইউনুস জানায়, আমার সাথে ঘটে যাওয়া জঘন্যতম ঘটনার জন্য আমি এলাকা ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম, শুধু মাত্র সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে এখনও আছি। আমি এই নিষ্ঠুরতার বিচার চাই।

এ বিষয়ে বামনা থানার ওসি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভাতিজা সোহাগকে গ্রেপ্তার করে বরগুনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি ইসমাইল জামিন আবেদন করলে বিচারক জমিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়।

আরো পড়ুন…
স্ত্রীর মলমূত্র খাওয়ালেন ছোট ভাইকে, গ্রেপ্তার ১



সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ


প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার    সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০। ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।