Current Bangladesh Time
Monday June ২২, ২০২৬ ৩:০৯ PM
Barisal News
Latest News
Home » রিপোর্টারের ডায়েরি » মনে রাখবেন, সুদিনের পাখিরা উড়াল দেবেই!
৩০ October ২০২০ Friday ২:৩৭:২৪ AM
Print this E-mail this

মনে রাখবেন, সুদিনের পাখিরা উড়াল দেবেই!


বাণী ইয়াসমিন হাসি

বাংলাদেশ কৃষকলীগ, জাতীয় শ্রমিকলীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফেসবুকের দেয়াল অভিনন্দন বার্তায় সয়লাব। একটা ব্যাপার খুব চোখে লাগলো। যার হাত ধরে সংগঠনে প্রবেশ বা পদ পদবি পাওয়া নতুন পোস্ট পদবী পেয়ে সবার আগে ঐ মানুষটাকেই ভুলে যাওয়া!

আওয়ামী লীগে নেতার অভাব নেই। তারাই নিজের অনুসারী বাড়াতে গিয়ে অনুপ্রবেশের মত কাজগুলো করেন। আশরাফ ভাই চলে যাওয়ার পর আগাছাদের উপদ্রব শতগুণ বেড়েছে। আমাকে কেউ বলতে পারেন ইউরোপ আমেরিকায় কেন শ্রমিক লীগ কিংবা কৃষক লীগের কমিটি থাকবে? ওখানে তাদের কি কাজ? কেন এসব কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়? এই আওয়ামী লীগ বড্ড অচেনা লাগে। এই সংগঠন বঙ্গবন্ধুর হতে পারে না। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের নেত্রী শেখ হাসিনার হতে পারে না। আগাছা বেছে ফেলতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। আরও এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক সততা জাদুঘরে চলে যেতে পারে না। এ সততাকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেকের ধারণা ছিল আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবে না। কিন্তু শেখ হাসিনা সেই অসাধ্য সাধন করেছেন। ফিনিক্স পাখির মতন আওয়ামী লীগকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলেছেন। নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। সেই রাজনীতি গত ১২ বছরে উইপোকা নীরবে খেয়ে ফেলছে।

দলের দুঃসময় এলে এইসব হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী সুযোগসন্ধানীদের যে খুঁজে পাওয়া যাবে না সেটি দলের হাই কমান্ডের উপলব্ধি করার সময় এখন। এইসব বসন্তের কোকিল বা কাউয়াদের এখন দূরে সরানোর সময়। তা না হলে নকলের ভিড়ে আসল হারিয়ে গেলে দলকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

মিছিলের সব কর্মী নেতা হতে পারে না, কখনো বা আবার ন্যূনতম স্বীকৃতিটুকুও মেলে না। চোখের জলে সংগঠন থেকে বহুদূরে চলে গেছে এমন কর্মীর সংখ্যা লক্ষ হাজার। সোনা ফেলে চকচকে পিতলের মোহ কাটানোটা সত্যিই খুব জরুরি।

আজ সকালে ঘুম ভেঙে ফোন হাতে নিয়ে প্রথমে একটা ভিডিও পেলাম। এর কয়েক মিনিট পরে ৫টা ছবি পেলাম। বেশ কয়েকবার ভিডিওটা দেখলাম। ছবিগুলোও খুঁটিয়ে খু্ঁটিয়ে দেখলাম। গতকাল মাঝরাতে নেতাকর্মীদের দেউলিয়াত্বপনা নিয়ে বেশ বিরক্ত ছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিলো আমাদের নেতারা আদর্শিক কর্মী তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই পদ পদবী বদলের সাথে সাথে ভাইও বদল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আজকের এই ভিডিও এবং ছবিগুলো আমাকে ‌অন্য একটা বার্তা দিল। পদ পদবী না থাকলেও কর্মীর মনে স্থায়ীভাবে থাকা যায়। ভালোবাসার প্রতিদান শুধু ভালোবাসা দিয়েই হয়। 

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট জেল থেকে কবে ছাড়া পাবেন বা আদৌ জামিন পাবেন কিনা সেটা কেউ জানে না। উনি এখন সেই অর্থে কোন কর্মীর কাজে আসবেন না। বরং উনার পক্ষ নিলে উল্টো হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরও আজ সকালে আদালত প্রাঙ্গনে নেতাকর্মীর ঢল নেমেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই মুহূর্মুহূ স্লোগানে তারা গোটা এলাকা কাঁপিয়ে তুলেছিল। 

মনে পড়ে ৫ মে এর সেই ভয়াল দিনের কথা। সেদিন ঢাকার বুকে আঁকা হয়েছিল ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ক্ষত চিহ্ন। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থান নিয়ে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-হেফাজতে ইসলাম। ধর্মের নামে এমন জঘন্য তাণ্ডব, মানুষ খুন, বাঙালি জাতি আর কখনো দেখেনি! তারা বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ভিতরে আগুন দিল, মুসলিমদের হাজার হাজার পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পুড়িয়ে দিল। মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে উঠলো রণক্ষেত্র। আর বাংলাদেশকে তালেবান রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্নে এতদিন যারা বিভোর ছিল, তারা সেদিন আনন্দে আত্মহারা হয়েছিল!

সেদিন সকাল থেকে জাগরণ যোদ্ধারা শাহবাগে জড় হতে থাকে। যদিও অনেক চেনা মুখ সেদিন ভয়ে এইদিকে আসতে সাহস পায়নি। অনেকের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছিল একটি খবর পেয়ে যে, হেফাজত-জামায়াত শাহবাগে আক্রমণ করবে। প্রতিরোধ করার মত কোন প্রস্তুতি নেই। কিছু গজারি ও বাঁশের লাঠি যোগাড় করা হয়েছিল কিন্তু এই ভয়ানক উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীকে তা দিয়ে মোকাবেলা করা মুশকিল। বিকেল গড়াতে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের দিকে তারা রওনা হলো বিশাল এক জমায়েত নিয়ে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ২৬ মার্চের পর থেকে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচি না আসলেও ঐ দিন সবার আগে তারাই প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মৎস্য ভবনের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুললে জামায়াত-হেফাজত এর উগ্র জঙ্গিরা শাহবাগে আক্রমণ করতে পারেনি।

ওয়ান ইলেভেন, হেফাজতী তাণ্ডবের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ভীষণ দরকার ছিল। আজ দলের সুদিন তাই হয়তো সম্রাটদের আর দরকার নেই। শুধু মানবিক কারণে কত দাগী আসামির জামিন মিলেছে, সাজা মওকুফ হয়েছে। খালেদা জিয়ার পেছনে ছাতা ধরা লোকমান জামিন পেয়েছে কিন্তু দুর্দিনের পরীক্ষিত কর্মী অসুস্থ সম্রাটের বেলায় কোন মানবিকতা কাজ করে না। প্রকান্তরে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে! মনে রাখবেন, সুদিনের পাখিরা উড়াল দেবেই!

লেখক: সম্পাদক, বিবার্তা২৪ ডটনেট।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
মাদকের রমরমা বাণিজ্য: বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার যেন ‘ইয়াবার বাজার’
পুলিশের ধাওয়ায় ড্রেনে পড়ে আ.লীগ নেতার মৃত্যু, স্বজনদের অভিযোগ
বরিশালে কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র শোডাউন
বরিশালে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প:লাল কালির নম্বরেই বছরের পর বছর পার
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com