Home » দুমকি » পটুয়াখালী » দুমকিতে ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসাতে ছাত্র অধিকার নেতার চাঁদাবাজির মামলার নেপথ্যে
৩১ March ২০২৬ Tuesday ৭:৩০:২৫ PM
দুমকিতে ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসাতে ছাত্র অধিকার নেতার চাঁদাবাজির মামলার নেপথ্যে
দুমকি ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক গণসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. ফিরোজ আলমকে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসাতে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ছাত্র অধিকার পরিষদের এক নেতার বিরুদ্ধে।
জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. ফিরোজ আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাটি দায়ের করেন গণঅধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্র অধিকার পরিষদের’ পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনির মোল্লা।
জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা মনির মোল্লা একটি চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রদল নেতা ফিরোজ আলমকে ৯ নম্বর আসামি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- ২৫ মার্চ ফিরোজ আলমের নির্দেশক্রমে ৩ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে না পাওয়ায় মনির মোল্লাকে মারধর করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে।
তবে ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনাস্থলে ছাত্রদল নেতা ফিরোজের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
ফুটেজে দেখা যায়, জিওপি নেতা মনির মোল্লার ব্যবসায়িক দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করতে উদ্যত হন কয়েকজন যুবক। একপর্যায়ে মনির মোল্লাও একটি হকিস্টিকসদৃশ কিছু দিয়ে তাদের আঘাত করার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকে দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করা হয়। তবে সেখানে চাঁদা হিসেবে বিপুল অংকের টাকা নেওয়ার মতো কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
পরে এ ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিলে স্থানীয় লিটন হাওলাদারসহ অন্তত ৫ জন প্রত্যক্ষদর্শী এই প্রতিবেদককে জানান, ঘটনার দিন সকালে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মনির ও ছাত্রদল নেতা ফিরোজের মা ও ভাইয়ের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরেই মূলত রাতে ফের মারামারি হয়। তবে সেখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এছাড়া মামলার বাদী জিওপি নেতা মনির মোল্লার সরবরাহকৃত সিসিটিভি ফুটেজেও এমন কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযোগ করে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা ফিরোজ আলম বলেন, শিগগিরই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি হবে। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার পাশাপাশি সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তার ছোট ভাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরিফ জানতে পারে- তাদের জমির পিলার উপড়ে ফেলেছে মনির মোল্লা। তখন আরিফ মনিরের দোকানে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে মনির ক্ষিপ্ত হয়ে তার দোকানে থাকা হকিস্টিক বের করে মারমুখী হলে অন্যরা মনিরকে দোকান থেকে টেনে বের করেন এবং দুপক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়।
চাঁদাবাজির প্রমাণের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী ও ছাত্র অধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনির মোল্লা জানান, তার সিসি ক্যামেরাও প্রতিপক্ষ লুট করেছে। তাই তার কাছে এখন প্রমাণ নেই।
তিনি আরও বলেন, তার নিজের নামে কোনো জমি নেই, তাই কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।
দুমকি থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত হওয়া তদন্তে চাঁদাবাজির বিষয়টি ঘোলাটে। তদন্ত কর্মকর্তা চাইলেও মারধরের আগে-পরের সিসিটিভি ফুটেজ বাদী সরবরাহ করতে পারেননি। এছাড়া সিসি ক্যামেরা লুট হওয়ারও কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। চলমান অধিকতর তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
১০ ঘণ্টা পর বরিশালে বাস চলাচল স্বাভাবিক, অবরোধে চরম ভোগান্তি