ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামের অসহায় দিনমজুর নির্মল চন্দ্র ব্যাপারী (৪৫) পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পলিথিন ও খেজুরপাতার ছাউনিতে তৈরি জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়িই বর্তমানে তাঁদের একমাত্র আশ্রয়।
নির্মল চন্দ্র ব্যাপারীর পরিবারে স্ত্রী মুক্তা, বড় মেয়ে মধুমিতা (৫) ও ছোট মেয়ে নন্দিনী (৯ মাস) রয়েছে। মধুমিতা স্থানীয় আলহাজ মোর্শেদ খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করার সময় খড়ের গাদা থেকে পড়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পান নির্মল। এর পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না। এক দিন কাজ করলে পরবর্তী চার-পাঁচ দিন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকতে হয়। বর্তমানে বসে বসে বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করে মাসে চার-পাঁচ হাজার টাকা আয় করেন, যা দিয়ে সংসার চালানো তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আলহাজ মোর্শেদ খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জরাজীর্ণ একটি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে, ভিজে যায় বিছানা ও মেঝে। পলিথিন ও সিমেন্টের বস্তা দিয়ে কোনোভাবে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তাতে তেমন কাজ হয় না।
ঘরে নেই কোনো বিদ্যুৎ-সংযোগ। বড় ভাই স্বপন ব্যাপারীর ঘর থেকে সংযোগ এনে একটিমাত্র বাতি জ্বালিয়ে কোনোভাবে রাত কাটান তাঁরা। ঝড়বৃষ্টির সময় ঘর ধসে পড়ার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় পরিবারটির।
নির্মল চন্দ্র ব্যাপারী বলেন, ‘আগে কাজ করতে পারতাম, এখন পারি না। কোমরে আঘাত পাওয়ার পর জীবন থমকে গেছে। বৃষ্টি এলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
স্ত্রী মুক্তা বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে যায়। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে রাত কাটাই। কখন ঘর ভেঙে পড়ে, সেই ভয়েই থাকি।’
বড় ভাই স্বপন ব্যাপারী বলেন, ‘আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ভাইকে সাহায্য করি। নিজের ঘর থেকে বিদ্যুৎ দিয়ে একটি বাতির ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু একটি ঘর করে দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমার নেই।’
নির্মল চন্দ্র ব্যাপারী জানান, সরকার থেকে একটি কার্ড পেয়েছেন, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারেন। তবে এর বাইরে কোনো সহায়তা পাননি।
স্থানীয় শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্মল ব্যাপারী এখনো কোনো সরকারি আবাসন সুবিধা পাননি। সামান্য সহায়তা পেলে পরিবারটি নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
পোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খালিদ হাসান বাদল বলেন, নির্মল ব্যাপারী অত্যন্ত অসহায়। সরকারি সহযোগিতা পেলে তাঁর জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজ বলেন, পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে তাদের জন্য সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
মঞ্চ সাজিয়েও উদ্বোধনী দিনে বন্ধ হলো বাণিজ্য মেলা
কর্মস্থলে অনুপস্থিত, নৌ প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ
আগামী ৬ জুন শেবাচিমে চালু হবে হেমাটোলজি ডে কেয়ার ইউনিট
আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ সহ ৪ জনের বিচার শুরু
শেবাচিম হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ