Home » ক্যাম্পাস » বরিশাল » নিয়মের কথা বলায় ববি প্রকৌশলীকে চেয়ার ছুড়ে মারলেন ছাত্রদল নেতা
১৭ May ২০২৬ Sunday ১১:৪৪:১৫ PM
নিয়মের কথা বলায় ববি প্রকৌশলীকে চেয়ার ছুড়ে মারলেন ছাত্রদল নেতা
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রকৌশল দফতরের সহকারী প্রকৌশলী মো: মামুন অর রশিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলামের (মিনহাজ সাগর) বিরুদ্ধে।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে সহকারী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে তাকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয় বলে জানা গেছে। মূলত একটি ঠিকাদারি কাজের বিল দ্রুত পাইয়ে দেয়ার তদবিরকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।
প্রকৌশল দফতর ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে সাইফুল মুন্সি নামে এক ঠিকাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় চব্বিশ হল’ প্রভোস্ট ও অজুখানার ইলেকট্রিক লাইনের কাজ সম্পন্ন করেন। সেই কাজের বিল উত্তোলনের তদবির করতে আজ বিকেলে ঠিকাদার সাইফুলকে সাথে নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী মামুনের কক্ষে যান ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল। সেখানে গিয়ে তিনি বিল পেতে কেন দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রকৌশলীর কাছে কৈফিয়ত তলব করেন এবং দ্রুত বিল ছাড় করার জন্য চাপ দেন।
এ সময় সহকারী প্রকৌশলী মামুন জানান, বিলটি সরকারি নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী দেয়া হবে। এই জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল কক্ষে থাকা একটি চেয়ার তুলে মামুনকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।
কক্ষে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক কর্মকর্তা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম একটি বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রকৌশলী মামুনের রুমে আসেন। মামুন তাকে প্রধান দফতরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলে ওই ছাত্রনেতা আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিলের কাজ শেষ করার আলটিমেটাম দেন। মামুন আবারো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দফতরে কথা বলতে বললে, মিনহাজ একটি চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করতে যান। প্রথমে আমি সেটি ঠেকিয়ে দিলেও, পরক্ষণেই দরজার পাশে থাকা আরেকটি চেয়ার দিয়ে তিনি মামুনকে আঘাত করেন।’
ভুক্তভোগী সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ছাত্রদল সহ-সভাপতি মিনহাজ সাগর এক ঠিকাদারের বিলের তদবির নিয়ে এসে আজই বিল দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। আমি তাকে নিয়ম অনুযায়ী বিল প্রক্রিয়াকরণ হবে জানালে এবং দফতর প্রধানের সাথে কথা বলতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আমাকে চেয়ার ছুড়ে মারেন এবং মিথ্যা দাবি করেন যে আমি নাকি তাকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেছি। যাওয়ার সময় তিনি আমাকে হুমকিও দিয়ে গেছেন। এই ঘটনার পর থেকে আমি কর্মস্থলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঠিকাদার সাইফুল মুন্সির বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রকৌশলী মামুনের রুমে গিয়েছিলাম এবং দ্রুত বিলটি দেয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু মামুন উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে আমার পরিচয় জানতে চান এবং বলেন ‘আমি কে?’। এমন আচরণে লজ্জিত হয়ে আমি কক্ষ থেকে বের হয়ে আসি। তাকে চেয়ার ছুড়ে মারার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো: মামুন অর রশিদ জানান, ‘আমি এখনো অফিশিয়ালি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
ফ্যামিলি কার্ডের টাকায় নারীর ক্ষমতায়ন তৈরি হবে :গৌরনদীতে তথ্যমন্ত্রী
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: ১৫ বছরে ৭ উপাচার্য, চারজনকেই অপসারণ
বরিশালে বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ
শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্যে নতুন উপাচার্য পেল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়