![]() বিপজ্জনক ৩৮ বাঁকে নিত্য দুর্ঘটনা: মৃত্যুফাঁদের মহাসড়কে দক্ষিণের ঈদযাত্রা
২৪ May ২০২৬ Sunday ১২:৩৮:৩০ PM
বিশেষ প্রতিনিধি: ![]() মৃত্যুফাঁদের মহাসড়ক ধরে ঈদে বাড়ি ফিরছে বরিশাল অঞ্চলের মানুষ। এতে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা আর হতাহতের সংখ্যা। শুক্রবারও এই সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ৩৫ বছরের এক যুবক। দেড় মাসে এভাবে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬১। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ শতগুণ বাড়লেও প্রশস্ত হয়নি মহাসড়ক। উপরন্তু বিপদ বাড়াচ্ছে সড়কে থাকা ৩৮টি বিপজ্জনক বাঁক। যেসব বাঁকে প্রায়ই দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে যানবাহন। সবমিলিয়ে যেন লাশের মিছিল রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে। সড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার কাজও থমকে আছে বহু বছর। দুর্ঘটনার মাত্রা কমাতে আপাতত সড়কটিকে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা। বাসচালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত গাড়ি চালাতে প্রতিমুহূর্ত যেন লড়াই করতে হয় স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে। যে সংখ্যক গাড়ি চলে, সেই তুলনায় সড়ক সরু হওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তারপর রয়েছে ব্যাটারি আর গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলারের যন্ত্রণা।’ ঈগল পরিবহণের বাসচালক সাত্তার মিয়া বলেন, ভাঙ্গা পার হওয়ার পর টেকেরহাট পর্যন্ত মোটামুটি সোজা এই মহাসড়ক। তারপর শুরু একের পর এক বিপজ্জনক বাঁক। কিছু বাঁক আছে উলটো দিক থেকে আসা যানবাহন চোখেই পড়ে না। বিশেষ করে মাদারীপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত এলাকা। ঈদযাত্রায় শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে বাসে বরিশালে এসেছেন নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুল হক। তিনি বলেন, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়কে অন্তত ৪টি দুর্ঘটনা চোখে পড়েছে। কেউ মারা গেছে কি না জানি না। তবে নিজের চোখে দেখেছি রাস্তার পাশে ট্রাক আর ছোট গাড়ি উলটে পড়ে আছে। রোড সেফটি মুভমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাগুলোর মূল কারণ হচ্ছে মহাসড়কের অপ্রশস্ততা। বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ৬ লেন না হলে এই মহাসড়কে যেমন গতি বাড়বে না, তেমনই বন্ধ হবে না মৃত্যুর মিছিল। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। মাদারীপুর অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বরিশাল থেকে লেবুখালী পায়রা ব্রিজ পর্যন্ত যে অধিগ্রহণ, তাও ১/২ মাসের মধ্যে শেষ হবে। এরপর বাকি থাকে ফরিদপুর অংশ। যতদূর জানি, সেখানকার জমি অধিগ্রহণ শেষ হতে ৩/৪ মাস লাগবে। এগুলো হয়ে গেলেই শুরু হবে মূল প্রকল্পের কাজ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করেছি। অর্থ সহায়তা দিতে দাতা সংস্থারও আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, ফরিদপুর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত বর্তমান যে মহাসড়ক, সেটির প্রস্থ ৩৪ ফুটে উন্নীত করার কাজ চলছে। ৬ লেন না হওয়া পর্যন্ত এই ৩৪ ফুট প্রস্থ পেলেও আশা করি মহাসড়কে যানবাহন চলাচল মোটামুটি সহজ হবে এবং দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমবে। সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

