Home » বরিশাল » বাবুগঞ্জ » ১৫ বছর ধরে ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের নামে প্রতারণার , ভুয়া চিকিৎসককে জরিমানা
১৯ October ২০২৬ Monday ৪:৫৮:৫৫ PM
১৫ বছর ধরে ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের নামে প্রতারণার , ভুয়া চিকিৎসককে জরিমানা
বরিশাল প্রতিনিধিঃ ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার একটি ফার্মেসিতে রোগী দেখার সময় রোববার (১৮ অক্টোবর) তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁর ব্যবহৃত ডিভাইস ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালান। প্রশাসনের দাবি, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসছিলেন আলীমুল ইসলাম। তাঁর দেখানো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আলীমুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আসছিলেন। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকাতেও তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের নামে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামের সহজ-সরল সালেহা বেগম চোখের সমস্যা ও মাথাব্যথার চিকিৎসা নিতে তাঁর কাছে গিয়েছিলেন। এক দালালের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, বাবুগঞ্জের কলেজ গেট এলাকায় যন্ত্রের সাহায্যে রোগ নির্ণয় করে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেখানে গিয়ে ডিভাইসে হাত রেখে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেন তিনি। তবে এভাবে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাঁর। সালেহা বেগমের মতো আরও অনেক সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আলীমুল ইসলামের নিজের নামে ছাপানো ব্যবস্থাপত্রে ‘ডা. আলীমুল ইসলাম’ লেখা ছিল। সেখানে তাঁর যোগ্যতা হিসেবে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ব্যবস্থাপত্রে মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী বলেন, ‘খবর পেয়ে ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করি। তাঁর দেখানো কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, ‘চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালানো হয়। তিনি ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করছিলেন, কিন্তু বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন।’
ইউএনও আরও বলেন, তাঁকে প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ সময় চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়। আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নয় বছর পর কার্নিভ্যাল: ছয় লাখ পর্যটকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা
পায়রা বন্দরের চ্যানেল খনন: পলির নিচে ৬৫০০ কোটি টাকা
মা ইলিশ শিকারে ‘নিরাপত্তা বাণিজ্য’, নেপথ্যে যারা
মরণফাঁদে পরিণত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, চলতি বছরে ৩০ জনের মৃত্যু