এক অভিমানে চল্লিশ বছর গৃহত্যাগ! মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে সামান্য কথা কাটাকাটির জের ধরে বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হন আব্দুস সাত্তার সিকদার। এরপর টানা চল্লিশ বছর তার হদিস ছিল না। ২০ বছর বয়সী আবদুস সাত্তারকে মৃত ভেবে এই দীর্ঘ সময়ে স্বজনরা শোকে কাটিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর বাড়িতে ফিরে এসে পরিবার ও গ্রামবাসীকে বিস্মিত করে দেন তিনি।
বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের অযোধ্যা গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রামের মৃত সবেদ আলী সিকদারের ছোট ছেলে আবদুস সাত্তার টানা চল্লিশ বছর নিরুদ্দেশ থাকার পর বাড়ি ফিরে এসেছেন। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসীর মধ্যে মহা আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের কৌতূহলী মানুষ সাত্তার কে একনজর দেখতে ভিড় করছেন।
সাত্তার জানান-“ বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি করে একদিন দুপুরে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর পথে পথে মসজিদ আর মাজারে সময় কাটিয়েছেন। এ সময় তার মস্তিস্ক বিকৃতি ঘটে। ওই অবস্থায় তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন টানা ২০ বছর। এরপর কিছুটা সুস্থ হন।
তবে বাড়িঘরের স্মৃতি তার মনে ছিল না। এরপর ১০ বছর আগে ভারতের আজমীর শরীফে চলে যান। সেখানে মাজারের প্রাত্যহিক পরিচর্যার কাজ শুরু করেন। কিছুদিন আগে নামাজ আদায়ের পর তিনি স্মরণ শক্তি ফিরে পান। ৪০ বছর আগে ফেলে আসা ঘর আর স্বজনদের কথা মনে পড়ে যায়”। সেই টানে বহু কষ্টে বুধবার দুপুরে বাড়ি ফিরে আসেন সাত্তার।
সাত্তার বলেন- “সামান্য অভিমানে ৪০ বছর জীবন থেকে ঝরে গেছে। আমি এখন পরিবারের স্বজনদের নিয়ে নতুন করে বাঁচতে চাই”।
বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের অযোধ্যা গ্রামের মৃত সবেদ আলী সিকদারের চার ছেলে। আব্দুস সাত্তার সবার ছোট। ২০ বছর বয়সে তিনি বাড়ি থেকে রাগ করে নিরুদ্দেশ হন। মেজ ও সেজ ছেলে মারা গেছেন। বেঁচে আছেন কেবল বড় ছেলে আব্দুল হামিদ সিকদার। আব্দুস সাত্তার ৪০ বছর ধরে নিরুদ্দেশ থাকায় ধরে নেন সে হয়তো আর বেঁচে নেই।
বুধবার দুপুরে ষাটোর্ধ একজন মানুষ অযোধ্যা গ্রামে এসে সিকদার বাড়ির লোকজনের খোঁজ নিতে থাকেন। তিনি দাবি করেন গ্রামের সবেদ আলী সিকদারের ছোট ছেলে তিনি। তার কথা কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তার ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা বোন হাজেরা বেগম তাকে শনাক্ত করেন।
বৃদ্ধা হাজেরা বেগম বলেন-“ ছোটবেলায় সাত্তারের ডান পায়ের উড়ুতে গরম ভাতের মাড় পড়ে পুড়ে গিয়েছিল। ওই দাগ দেখেই ওকে চিনতে পেরেছি। এতদিন পর রক্তের ভাইকে পেয়েছি, সবই আল্লাহর লীলা”। সাত্তারের বড় ভাই অশীতিপর আব্দুল হামিদ সিকদার ভাই ফিরে আসার পর থেকে শুধুই কাঁদছেন। এই কান্না সুখের কান্না।
আব্দুল হামিদ বলেন- “আল্লাহর অসীম দয়ায় ভাইকে ফেরত পেয়েছি। জীবনের শেষ বেলায় এসে বড় সুখ লাগছে আমার ও পবিারের”।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |