বামনা-কাঠালিয়া বিধ্বস্ত ব্রীজ ‘তুফানে দোললে মাকে জড়াইয়া কাঁদি’ মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
‘নৌকায় ওঠে মায়ের হাত ধইর্যা চোখ বুইজ্যা দাড়াইয়া থাহি, তুফানে দোললে মাকে জড়াইয়া কাঁদি’। আমূয়া কেজি স্কুলের প্লে-শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছয় বছরের শিশু আফসানা মিমি মুক্তি মায়ের সঙ্গে প্রতিদিন ১০৫ মিটারের নদীতে খেয়া পাড় হওয়ার সময় দুর্ভোগ আর নদীতে ডোবার আতংকের এ কথা জানায়।
প্রতিদিন আতংক নিয়ে নদীর খেয়া পাড় হয়ে তাকে স্কুলে যেতে হয়।
শুধু মুক্তিই নয় বরগুনার বামনার চালিতাবুনিয়া থেকে আমূয়ার ওপাড়ে প্রতিদিন কেজি স্কুল, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডিগ্রী কলেজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তাসহ কয়েকহাজার সাধারণ পথচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী হন।
জানাগেছে, ২০১২ সালের ৪ জুন সকালে ১০৫ মিটার লম্বা লোহার স্লিপার ব্রীজটি বালুবোঝাই কার্গোর ধাক্কায় নদী মধ্যে বিধ্বস্ত হলে বামনা-কাঠালিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে।
আমূয়া ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী সালমা আক্তার জানান- খেয়ার মাঝি শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রেখে বেশী পয়সার লোভে সাধারণ যাত্রীদের পাড় করতে ব্যাস্ত থাকেন। এতে স্কুল ও কলেজগামী ছাত্র ছাত্রীদের পাড় হওয়ার জন্য আধা ঘন্টা সময় দাড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে প্রায়ই নির্ধারিত সময়ে শ্রেনীকক্ষে উপস্থিত হওয়া যায়না।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, বরগুনার বামনা ও ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার আমূয়া বন্দরের সাথে ১০৫ মিটার লম্বা লোহার স্লিপারের সংযোগ ব্রীজটি নিচ দিয়ে ২০১২ সালের ৪ জুন একটি বিশালাকৃতির বালু বোঝাই কার্গো যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রন হরিয়ে প্রবল গতিতে পিলারে আঘাত করলে মূহুর্তেই ব্রীজটি ভেঙ্গে নদীর মধ্যে বিধ্বস্ত হয়।
ফলে দুই বছর ধরে আমূয়া বন্দরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে বামনা ও আমূয়া বন্দর ছাড়াও বামনা, মিরুখালী ও মঠবাড়িয়া জনপদের কয়েক লাখ মানুষের যোগাযোগে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে আমূয়া ও বামনা উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষ, শিক্ষার্থী , অফিসগামী ও ব্যবসায়ী লোকজন।
ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, এলজিইডির অর্থায়নে ১৯৯২ সালে জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় ব্যবসা কেন্দ্র আমূয়া বন্দর সংলগ্ন নদীর ওপর ১০৫ মিটার লম্বা লোহার স্লিপার ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়।
পরে এ ব্রীজটি নড়বরে হয়ে গেলে ২০০২ সালে দ্বিতীয় দফায় মেরামত করা হয়। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে ব্রীজটির কিছু সিমেন্টের স্লিপারসহ মূল কাঠামোর ক্ষতি হলেও অর্থ বরাদ্দের অভাবে আর মেরামত করা হয়নি।
বামনা ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও আমূয়া বন্দরের স্থায়ী বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন- “ব্রীজটি বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে স্কুল কলেজের ছাত্র, ছাত্রী ও শিক্ষক সহ কয়েক হাজার পথচারী প্রতিদিন পাড়াপাড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আশা করেছিলাম জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে দ্রুত নির্মাণ করার উদ্যোগ নেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখাগেছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে সেখানে খেয়া বানিজ্য চালু করেছেন”।
বামনা উপজেলা চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু বলেন- “ঝালকাঠি জেলার সবচেয়ে বড় ব্যবসা বন্দর আমূয়ার এই ব্রীজটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। সেতুটি এভাবে বিধ্বস্ত হওয়ায় চলচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে জনসাধারণ। এমন অবস্থায় সেতুটি দ্রুত নির্মাণের দাবি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে জানিয়েছি”।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম সরকার বলেন- “বর্তমান অর্থ বছরে বিধ্বস্ত লোহার ব্রীজটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প ভূক্ত করা হয়েছে। শীঘ্রই সংস্কারের জন্য ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে”।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |