‘ভয় হয়, এই বুঝি ধসে পরে’ মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বরগুনার বামনা উপজেলা সদরের সারওয়ার জান মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বার শতাধিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। স্কুল ভবনের সব শ্রেণি কক্ষের দেয়ালে বিশাল আকৃতির ফাটল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখাগেছে, বিদ্যালয়ের ছয় কক্ষ বিশিষ্ঠ পাকা ভবনটির দেয়াল জুড়ে বড় বড় ফাটল, কোথাও কোথাও ছাদের পলেস্তরা খসে পড়েছে। দুটি শ্রেণি কক্ষের দেয়ালের ইট খুলে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক দিকে যেমন শ্রেণিকক্ষের সংকট অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করতে গিয়ে দিনভর আতঙ্কিত অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। সম্প্রতি ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী আহত হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানাযায়, বিদ্যালয়টি ১৯৪৪ সনে স্থাপিত হয়। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ১৯৯৩ সালে আট কক্ষ বিশিষ্ট ফ্যাসিলিটি বিভাগের অর্থায়নে একটি ভবন নির্মান করা হয়। ভবনটির নির্মাণ মান সম্মত না হওয়ায় দেয়াল ও ছাদ জুড়ে বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফিজা আক্তার জানায়- ক্লাসে বসতে ভয় হয়, মনে হয় এই বুঝি রুমের দেয়াল ধসে পরে। সারাক্ষণ এ আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছি। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকরা ও ক্লাস নিচ্ছেন ঝুঁকি নিয়ে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.এস.এম হারুন আর রশিদ জানান- ভবনটির নির্মান মান সম্মত না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডেপুটি এর্টনি জেনারেল এ্যাড.মো.হারুন আর রশিদ জানান- ইতিমধ্যে ভবনটির সংস্কারের জন্য কয়েক দফা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন অর্থ বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম বসু জানান- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত। এ সমস্যা সমাধানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কিছুই করার নেই।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |