ওঝা’র ভন্ডামিঃ ভোলায় চলছে মৃত মানুষ জীবিত করার চেষ্টা!
 মৃত শরিফের কবর (বায়ে), ডানে কবর দেখার জন্য কৌতুহলী জনতার ভীড় (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
ভোলা, ২১ অক্টোবর (অচিন্ত মজুমদার/আমাদের বরিশাল ডটকম): মৃত মানুষ জীবিত হওয়ার ঘটনা ঘটে কল্পবিজ্ঞান বা রূপকাহিনীতে, বাস্তবে যা অসম্ভব। তবে বিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভোলা সদরের বাপ্তা ইউনিয়নের মুছাকান্দি গ্রামে মৃত মানুষকে জীবিত করার চেষ্টা করছেন এক ভন্ড ওঝা। তার এই মৃত মানুষ জীবিত করা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে সমগ্র ভোলায়।
জানা গেছে, ভোলার বাপ্তা ইউনিয়নের মুছাকান্দি গ্রামের সরকার বাড়িতে গত ১মাস আগে শরিফ (১১) নামে এক শিশুর সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ১ মাস পর শরিফের মাসহ তার বিভিন্ন স্বজনরা স্বপ্নে দেখেন শরিফ কবরের মধ্যে জীবিত আছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। এরপর শরিফের মা মুন্সিগঞ্জের বাদল ওঝাড় শরণাপন্ন হয়। ওঝা তার এক শিষ্যকে ভোলায় পাঠান শরিফের কবর দেখার জন্য যে কবর ভিজা রয়েছে কিনা। যদি কবর ভেজা থাকে তাহলে শরিফকে জীবিত করা সম্ভর হবে বলে জানান তিনি। চাঞ্চল্যকর এই খবরটি মোবাইলের মাধ্যমে দ্রুত ভোলার সমস্ত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ২১ অক্টোবর শুক্রবার সকাল থেকে হাজার হাজার কৌতুহলী জনতা শরিফের কবর এক নজড় দেখার জন্য ভীড় জমায় চাচড়া গ্রামের সরকার বাড়িতে। এদিকে অতিরিক্ত মানুষকে চা খাওয়ানোর জন্য সুমন নামে এক ছেলে সেখানে অস্থায়ী দোকান বসিয়েছে। উৎসুক জনতার ভীড় সামলাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, শরিফ বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। গত ১ মাস আগে একদিন রাতে হঠাৎ করেই ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় তার। বাড়ির পাশেই কবর দেয়া হয় শরিফকে। হটাৎ করেই গত তিন-চার দিন ধরে শরিফের কবরের কাছে একজন মধ্য বয়সী লোকতে নানা কর্মকান্ড করতে দেখেন গ্রামবাসী। জিজ্ঞাসা করা হলে লোকটি জানান, সাদা কাপড় দিয়ে কবর ঢেকে কড়ি দিয়ে তিনি শরিফকে কামড় দেয়া সাপটিকে আটকে রেখেছেন। সে আরো জানায়, মুন্সিগঞ্জের বাদল নামে এক ওঝা তাকে পাঠিয়েছেন এবং অচিরেই সে ভোলা এসে জীবিত অবস্থায় শরিফকে কবর থেতে তুলবেন।
এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার কৌতুহলী মানুষ শরিফের কবর এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমায় তার বাড়িতে। সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে শরিফের মা, নানি বা ওঝা’র শিষ্য কারোই দেখা মিলেনি। তবে সেখানে শরিফের কবর দেখতে ভীর করেছেন হাজারো মানুষ। যে কোন সময়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে বাদল ওঝা আসবে বলে এলাকাবাসী জানান।
এদিকেেএকুশ শতাব্দীতে এসেও মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে ওঝা’র এই ভন্ডামি বন্ধ করতে প্রসাশনকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছেন ভোলার সচেতন জনগন।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/ভোলা/অম/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |