নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরঃ বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কের লেবুখালী ফেরী পারাপার বিঘ্নিত
দুমকি, ১৫ নভেম্বর (মোঃ মজিবুর রহমান/আমাদের বরিশাল ডটকম): পায়রা নদীর নাব্যতা সংকটের কারনে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের লেবুখালী ফেরী পারাপারে মারাত্মক বিঘ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। পায়রা নদীর দুধলমৌ তীরের পন্টুণসহ আশ-পাশে জেগে ওঠা ডুবো চরে ঠেকে যাওয়ায় ফেরী চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীরা জানায়, বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালী ফেরীঘাটের পায়রা নদীতে বিশাল চর জেগে ওঠায় ফেরী পারাপার মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। দুধলমৌ ঘাটের পন্টুণসহ আশপাশে জেগে ওঠা ডুবো চরে প্রতিদিনই যানবাহন বোঝাই ফেরী আটকে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। জোয়ারের সময় তেমন একটা সমস্যা না হলেও ভাটায় দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। যানবাহন শূন্য ফেরী কোনক্রমে পন্টুণে ভেড়ানো গেলেও ৩/৪ টি বাস-মিনিবাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন ওঠানো হলেই ফেরী চরে ঠেকে যায়। একবার চরে আটকে গেলে তা আর সহজে পার পাওয়ার উপায় নেই। কখনো কখনো পার হতে ২/৩ ঘন্টারও বেশী সময় লেগে যায়। অনেক সময় জোয়ারের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়ে।
গত এক সপ্তাহে অন্তত: ২০/২৫ দফায় ফেরী আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আটকে পড়া যানবাহনের যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। অনেক যাত্রীকে তাদের আটকে থাকা গাড়ীর আশা ছেড়ে দিয়ে অন্য যানবাহনে নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলে যেতে দেখা গেছে। ফেরী পারাপার স্বাভাবিক করতে অবিলম্বে ড্রেজিং অথবা এ্যাপ্রোজ সড়ক বৃদ্ধি করে গ্যাংওয়ে সড়িয়ে নেয়া দরকার। অন্যথায় এ রুটে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রী সাধারনের ভোগান্তি থেকে রক্ষার কোন উপায় নেই বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
লেবুখালী ফেরীর টোল আদায়কারী আবদুল রশিদ আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, দুধলমৌ চরের জন্য চালকরা দেখে-শুনে খুব সতর্কভাবে ফেরী পারাপারের চেষ্টা করলেও মাঝে মাঝেই ফেরি আটকে যায়। বিষয়টি সড়ক ও জনপদ বিভাগসহ সবার জানা থাকলেও সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
লেবুখালী ফেরীঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার আবুল কুদ্দুস জানান, লেবুখালী ফেরীঘাটের উত্তর পারে পায়রা নদীতে বিশাল চর জেগে ওঠায় প্রতিনিয়ত ফেরী পারাপারে বিঘ্ন ঘটছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে স্বাভাবিকের চেয়েও বেশী পানি থাকায় কোন সমস্যা হয় না। শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় ফেরী ওই চরে আটকে যায় । বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এখন প্রতিনিয়ত ফেরী ঘাটে ভেড়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জরুরী ভিত্তিতে পন্টুন এলাকায় ড্রেজিং করে চ্যানেল তৈরীর মাধ্যমে ফেরী চলাচল কোন ক্রমে চালানো যেতে পারে। অন্যথায় এ্যাপ্রোজ সড়ক বৃদ্ধি করতে হবে। পন্টুন নদীর মাঝে এগিয়ে স্থাপন করতে হবে। তা হলেই এ রুটের যানবাহন পারাপারের গতি স্বাভাবিক হবে। এ ছাড়া চলমান দুর্ভোগ লাঘবের বিকল্প পথ নেই।
ফেরীর টোল আদায়কারী আবদুর রশিদ সিকদার আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, শুষ্ক মৌসুমে ফেরী পারাপারের দুর্ভোগ নতুন কোন ঘটনা নয়, এটি প্রতিবছরই হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এ দুর্ভোগ লাঘবে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় জনসাধারনকে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। আর এ কারনেই এক-দেড় ঘন্টার পথ যেতে এ রুটের যানবাহনে ৪-৫ ঘন্টা সময় লাগায় একদিকে সময় অপচয়, অপর দিকে যাত্রীদের আটকে থাকার বিড়ম্বণার শিকার হতে হয়।
এ ব্যাপরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শওকত আলী আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, দুধলমৌ ফেরীঘাটের এ্যাপ্রোজ সড়ক বৃদ্ধি করে একাধিকবার সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা আর বেশী দিন স্থায়ী হয়নি। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই একই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে ড্রেজিং’র চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ এবং প্রাইভেট ড্রেজার খোঁজা হচ্ছে। প্রাপ্তি সাপেক্ষে যতদ্রুত সম্ভব ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করা হবে।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/দুমকি/মর/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |