রক্ষকই জখন ভক্ষকঃ মির্জাগঞ্জে উজার হচ্ছে সামাজিক বনায়ন
 চত্রা এলাকা থেকে আটক সামাজিক বনায়নের বিভিন্ন প্রজাতির ৪৯ পিচ গাছ (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
পটুয়াখালী, ২৩ ডিসেম্বর (সঞ্জয় কুমার দাস/আমাদের বরিশাল ডটকম): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বন বিভাগের পরোক্ষ সহযোগীতায় এলাকার কতিপয় বনদস্যু হিসেবে চিহ্নিত লোক সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে উজার করছে বন। রাতের আধাঁরে দোকলাখালী-চত্রা সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত গাছ ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জব্দ করেছে স্থাণীয় বন বিভাগ।
২১ ডিসেম্বর বুধবার রাতে উপজেলার চত্রা এলাকা থেকে মামুন নামে স্থানীয় এক যুবকের সহায়তায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের সামাজিক বনায়নের বিভিন্ন প্রজাতির ৪৯ পিচ গাছ আটক করে বন বিভাগ। ২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার রহস্যজনক কারনে আটককৃত গাছের মধ্যে থেকে ৩৪ পিচ গাছ উদ্ধার করে অফিসে নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা বনবিভাগ কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, আটককৃত গাছের মধ্যে থেকে ৩৪ পিচ গাছ জব্দ করা হয়েছে তবে কিছু জালানী এখনও রয়ে গেছে ওগুলোও জব্দ করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে গাছ কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বেড়েঁরধন নদীর তীরে দোকলাখালী ভায়া চত্রা গ্রাম থেকে লেমুয়া পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তার পাশে ১৯৯৭-৯৮ সালে সামাজিক বনায়নকৃত রেন্ট্রি, শিশু, ইপিল, আকাশমনি, কড়াই ইত্যাদি বিভিন্ন প্রজাতির কর্তনকৃত গাছের গোড়া পড়ে আছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ায় কোথাও কোথাও কর্তনকৃত গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে এবং আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ লোটাস এ প্রতিবেদককে জানান, অত্র এলাকা থেকে গাছ চুরি করে কর্তন কিংবা পাচার নতুন কোন ঘটনা নয়। জন বসতি কম থাকায় বন বিভাগের সাথে আতাত করে প্রায়ই দিনে রাতে এলাকা থেকে গাছ কেটে বিক্রি করে এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী লোক।
চত্রা গ্রামের যুবক মোঃ মামুন এ প্রতিনিধিকে জানান, ২১ ডিসেম্বর বুধবার রাত আটটার দিকে একটি ঠেলাগাড়ীতে করে কিছুগাছ ঐ এলাকার কাঠুরিয়া দীনমজুর আবু ও মোঃ ইউনুসকে নিয়ে যেতে দেখে তার সন্দেহ হয় এবং গাছ কার কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সে (ইউনুস) জানায় এগুলো সামাজিক বনায়নের গ্রুপ লিডার মোঃ রুস্তুম আলী ও ইউপি চেয়ারম্যানের গাছ। রাস্তায় পাইলিং করার জন্য কাটা হয়েছে। মুঠোফোনে চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সালামের কাছে যুবক মামুন জানতে চাইলে তিনি এ গাছের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান। তখন উপজেলা বনবিভাগকে অবহিত করলে বনবিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে দোকলাখালী স্লুইচ গেটের কাছে এবং ঠেলাগাড়ী থেকে মোট ৪৯ পিচ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের গুড়ি জব্দ করে স্থানীয় যুবক মামুনের জিম্মায় রাখে।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত দোকলাখালী-চত্রা সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি মো. রুস্তুম আলী মুঠোফোনে আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, ‘ওই গাছগুলি বণ্যায় পড়ে রয়েছে মাটিতে। নষ্ট হয়ে যাবে তাই গাছগুলী কেটে যে টাকা আসত তা আমি কমিটির ক্যাশে জমা দিতাম।’
এ ব্যাপারে দেউলী-সুবিদখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সালাম জানান, সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তনে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তবে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের তিনি তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, স্থানীয় যুবক মোঃ মামুনের সংবাদের ভিত্তিতে আমরা উপজেলার চত্রা ও দোকলাখালী এলাকা থেকে সামাজিক বনায়নের অবৈধভাবে কর্তনকৃত গাছগুলো জব্দ করেছি। তদন্তসাপেক্ষে মির্জাগঞ্জ কোর্টে এ ব্যাপারে নিয়মিত মামলা দায়ের করব।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/পটুয়াখালী/সকু/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |