এবার যৌতুকের বলি মির্জাগঞ্জের শিখা
পটুয়াখালী, ২ মে (সঞ্জয় কুমার দাস/আমাদের বরিশাল ডটকম): এবার যৌতুকের বলি হলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের ২ সন্তানের জননী শিখা রানী শীল(২৫)। যৌতুকের দাবীতে স্বামীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তিনি। এ ঘটনায় শিখা রানীর স্বামী, শ্বাশুড়ীসহ ৪জনকে আসামী করে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন গৃহবধুর ভাই নির্মল শীল। নিহত শিখা রানী প্রিয়াংকা শীল(৫) ও পিংকি শীল (৩মাস) নামের ২টি শিশু সন্তান রেখে গেছেন।
বাদী নির্মল শীল জানান, উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের কিসমতপুর খাটাশিয়া গ্রামের অনিল চন্দ্র শীলের ছেলে মিলন চন্দ্র শীলের সাথে ৬ বছর আগে শিখার বিয়ে হয়। হিন্দু ধর্মের নিয়মানুযায়ী বিয়ের সময় ছেলের দাবী অনুযায়ী সবকিছু দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিয়ের ৫বছর পর মিলন আবারো যৌতুকের দাবী তুলে শিখার কাছে। এর মধ্যে শিখার বাবা মারা যায়। এরপর যৌতুকের টাকা হিসাবে যখন যা পেরেছি বোনের সুখের জন্য তা দিয়েছি। কিন্তু গত ১৫ দিন আগে যৌতুকের জন্য শিখার স্বামী মিলন, শ্বাশুড়ী উষা রানীসহ অন্যান্যরা একত্রিত হয়ে মারধর করে শিখাকে তার বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দেয়।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন মামলার বরাত দিয়ে জানান, নিহত শিখা রানী উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাসন্দা গ্রামের মৃত সুনীল চন্দ্র শীলের মেয়ে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবী ছিল মিলনের। এ নিয়ে শিখাকে প্রায়ই মারধর করতো। ১ মে মঙ্গলবার সকালে মিলনের সাথে শিখার অনেকক্ষন মোবাইলে কথা হয়। এর কিছুক্ষন পরই শিখা তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তিনি আরো জানান, ধারনা করা হচ্ছে স্বামীর কথা শুনে ক্ষোভে অভিমানে শিখা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। শিখাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ায় মিলনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/পটুয়াখালী/সকু/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |