অভিযুক্তের গাড়ীতে করে অভিযোগের তদন্ত!
বেতাগী, ১০ মে (সাইদুল ইসলাম মন্টু/আমাদের বরিশাল ডটকম): বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া মাদ্রাসার খাতা জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতারা তদন্ত করতে এসে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন। তারা অভিযুক্তের ভাড়া করা গাড়িতে করে তদন্ত করতে আসেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে এসে তারা বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা হলেন- মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ডেপুটি রেজিষ্টার (প্রশাসন) ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
সম্প্রতি চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন গনমাধ্যেমে মোকামিয়া আলিম পরীক্ষার খাতা অতিরিক্ত সময় শাখা ডাকঘরে রেখে জালিয়াতির অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের পর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কমিটি গঠন করে। ঐ কমিটির দায়িত্ব পান ডেপুটি রেজিষ্টার (প্রশাসন) মো. আশরাফুজ্জামান ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. দোলোয়ার হোসেন মিয়া। তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে ৪মে মোকামিয়া মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্র তদন্তে আসেন তারা।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এম ভি পারাবাত লঞ্চ যোগে বরিশাল এসে পৌছে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঐ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস এর ভাড়া করা গাড়ীতে করে সরজমিনে তদন্ত করতে আসেন ঐ কর্মকর্তারা। প্রাইভেটকার যোগে বরিশাল থেকে বেতাগীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে পথে নিয়ামতি বাসস্ট্যান্ডে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে নামিয়ে দেয়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান জানান, তিনি ও বিষয়টি শুনেছেন, তবে এ অভিযোগ কতটা সত্য তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তদন্ত করা কতটা যোক্তিক এবং নিরপেক্ষ বজায় থাকবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে অন্যান্য মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের ডেপুটি রেজিষ্টার (প্রশাসন) মো. আশরাফুজ্জামান ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. দোলোয়ার হোসেন মিয়া সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে মোকামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস বলেন, কর্মকর্তাদের গাড়ী ভাড়া করে দেওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। তাদের সাথে একই সাথে আসা তো দুরের কথা এমনকি আমি তাদেরকে চিনিও না।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল কোরআন মাজিদ বিষয়ের পরীক্ষা শেষে স্থানীয় শাখা ডাকঘরে বুকিং দেয়া হয়। কিন্তু সেই খাতা তিন দিন পরে বরিশাল প্রধান ডাকঘরে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ডাকঘরের কার্যক্রম চলায় বাহির থেকে সরবরহ করা অবিকল উত্তর পত্র লিখে এনে নতুন করে সংযোজন করা হয়।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/বেতাগী/সাই/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |