চাল পায়নি বামনার জেলেরা নিষেধাজ্ঞা শেষে কর্তারা বললেন ‘চাল বিতরণে প্রস্তুতি সম্পন্ন’! মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বরগুনার বামনা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের নিবন্ধিত কোন জেলেই মাছ আহরণের নিষেধাজ্ঞার সময় পেড়িয়ে গেলেও সরকারি সহায়তার বরাদ্দকৃত চাল পায়নি। উপজেলার প্রায় তিন হাজার জেলের মধ্যে ৯৬০ জনের তালিকা প্রণয়ন করা হলেও তাদের ভাগ্যে কবে নাগাদ চাল সহায়তা মিলবে তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।
এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাজিউল ইসলাম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই চাল বিতরণ করার কথা। কিন্তু বিলম্বে নির্দেশনা আসায় যথাসময়ে বিতরণ শুরু করা যায়নি। ইতিমধ্যে প্রত্যেক ইউনিয়নে ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলেদের পরিবার সংখ্যা বিভাজন করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল খুব দ্রুত সময়ে বিতরণ করা হবে। এ ব্যাপারে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’
এ নিয়ে হতদরিদ্র জেলে পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। এমতাবস্থায় ওইসব জেলে পরিবার সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার কারণে তাদেরকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অভাব-অনটনে দিনযাপন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপকূলীয় নদ-নদী ও সাগরে ২২ দিন মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা বামনা উপজেলার ৯৬০টি দুস্থ জেলে পরিবার সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (বিশেষ ভিজিএফ) চাল এখনও পায়নি। জেলেরা বেকার দিন কাটালেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে চাল বিতরণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
বামনা উপজেলা মৎস্য ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এই ২২ দিন উপকূলীয় নদ-নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। ১২ অক্টোবর থেকে সাগরে মাছ আহরণে বিধি-নিষেধ আরোপিত হওয়ার পরই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে জেলেদের চাল বরাদ্দের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এ চাল বরাদ্দের ছাড়পত্র নিতে বিলম্ব করায় জেলেরা যথাসময়ে খাদ্য সহায়তা পায়নি। তাই মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ১ হাজার ১৩০ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৯৬০ জন জেলে পরিবারের জন্য ২০ কেজি করে ১৯২০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বামনা সদর ইউনিয়নে ২২০টি, রামনা ইউনিয়নে ২৪০টি, ডৌয়াতলা ইউনিয়নে ২৯০টি এবং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে ২১০টি জেলে পরিবারের এ চাল পাওয়ার কথা।
স্থানীয় একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেরা বেকার থাকেন। ওই সময়ে সরকারের এ সহায়তা খুবই প্রয়োজন। অথচ নিষেধাজ্ঞার সময় অতিবাহিত হলেও চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার হদিস নেই। কর্মকর্তাদের অবহেলাই এর মূল কারণ। তবে আরও বেশ কয়েকটি কারণে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রমের জটিলতা দেখা দিয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, যথাসময়ে উপজেলায় চাল বিতরণ কার্যক্রমের জন্য নির্দেশনা না আসা, তালিকা তৈরিতে বিলম্ব, প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে তালিকায় অন্য পেশার লোকদের অন্তর্ভুক্ত করার মানসিকতা। বামনা সদর ইউনিয়নের কলাগাছিয়া এলাকায় গিয়ে বেকার সময়ে জাল মেরামত নিয়ে ব্যস্ত জেলে বরুণ বালার সঙ্গে কথা হয়।
তিনি বলেন, ‘এহন নদী-সাগরে অবরোধ চলছে। এই জন্যে ব্যাকার হয়ে পড়ছি, আয়-ইনকাম কিছুই নাই। হুনছিলাম সরকার এইবার চাউল দিবে। কিন্তু সরকারি সাহাইয্যের ওই চাউল কহন আয়, কহন যায় আমারা কিছুই জানি না।
এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘জেলেদের মাঝে চাল বিতরন প্রক্রিয়া চলমান আছে।’
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |