জমির পর্চার আবেদন করা-নিলাম সার্টিফিকেট উত্তোলনসহ সব কাজেই এখন বরিশাল মহাফেজখানায় সেবাগ্রহীতাদের ঘুস দিতে হয়। এতে করে সরকারিভাবে কম টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও জনসাধারণকে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। ঘুস না দিলে দিনের পর দিন বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিপরীতের এ মহাফেজখানায় ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। তাই সরকারি সেবার সহজলভ্যতা থেকে বঞ্চিত হয়ে নানা দুর্ভোগে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। তাদের অভিযোগ, কঠোর তদারকি না থাকার কারণে এ মহাফেজখানা ঘুসের হাট-বাজারে রূপ নিয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিপরীতে ‘মহাফেজখানা’ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলেও এখন রূপ নিয়েছে ঘুসের হাটবাজারে। বরিশাল সদর উপজেলা ও জেলার দশটি উপজেলার বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজনের কাগজপত্র উত্তোলন করতে এসে নানা ধরনের বিপাকে পড়ছেন। জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক মল্লিক বলেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তির একটি আরএস পর্চা উত্তোলন করার জন্য বরিশাল মহাফেজখানায় গেলে আবেদন করার জন্য ৫শ টাকা নেয়। যেখানে সরকারিভাবে আবেদন করতে ১২০ টাকা লাগে সেখানে বাড়তি ৩৮০ টাকা করে নেয় কিউসোকো মেশিনের দায়িত্বে থাকা ইমন হাওলাদার। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো-সরকারি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি মেশিন কোনো সরকারি কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী নিয়ন্ত্রণ করছে না। চুক্তিতে ওই মেশিনটি পরিচালনা করছে ইমন। প্রায় দুই বছর ইমন এই মেশিন পরিচালনা করে জনগণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এছাড়া নিলাম সার্টিফিকেট, কারেকশন পেপার (সিপি), নর্থ-সাউথ সার্টিফিকেট তুলতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে নিতে হয় সেবা প্রার্থীদের। টাকার কন্টাক ছাড়া মাসের পর মাস ঘুরলেও মিলছে না এসব জরুরি কাগজপত্র। নগরীর কলেজ অ্যাভিনিউর বাসিন্দা সৈয়দ নেওয়াজ জানান, গত মাসে আমি একটি জমি ক্রয় করি। জমিটি নিলাম সূত্রে মালিক দেখে জমির নিলাম সার্টিফিকেট উঠানোর আবেদন করি। তবে ১৫-২০ দিন অপেক্ষার পর বুঝতে পারি যে স্বাভাবিকভাবে এই কাগজ পাওয়া সম্ভব নয়। এরপর ওই অফিসের অফিস সহায়ক মহিবুলের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা চুক্তি করার তিন দিনের ভেতর নিলাম সার্টিফিকেট হাতে পান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে মহাফেজখানার রেকর্ড কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে চলে এই ঘুসবাণিজ্য। অফিস সহায়ক আজাদ, মহিবুল ও চুক্তিভিত্তিক কাজ করা ইমনের কারণে বর্তমানে ঘুসবাণিজ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে এই দপ্তরটি।
একাধিক উপজেলা থেকে আসা সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়-এসএ, আরএস ও বিএস পর্চা পেতে আবেদন করার সময় ৩৮০ টাকা বাড়তি নেওয়ার পর আবার পর্চা হাতে পেতেও দিতে হয় টাকা। বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলন দাস বলেন, ১৫ দিন আগে একটি আরএস পর্চা উঠানোর আবেদন করার চার দিন পর এসে ফ্রন্ট ডেস্কে কাগজ না পাওয়ার জানতে পারি উপজেলার দায়িত্বে যে আছে তার কাছে পর্চা রয়েছে। এরপর তার কাছ থেকে পর্চাটি নিতে ৪শ টাকা দিতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অফিস সহায়ক বলেন, মহাফেজখানা একটি গোপনীয় নথিপত্র রাখার স্থান। সেখানে তাদের দুর্নীতি সচল রাখতে বাইরের লোক অফিসে এনে কাজ করায়। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বড় অঙ্কের টাকার কন্টাকে জমির নথিপত্র পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলে অফিসের কর্মকর্তারা। আর এই কাজের সহযোগী হলেন, দুজন মুহুরি। এরা হলেন, তোফাজ্জেল ও নওরেজ। অভিযোগ রয়েছে এদের দুজনকে দিয়ে পুরাতন অনেক জমিজমার রেকর্ড থেকে নাম পরিবর্তন করে অন্য জনের নামে মালিকানা পর্যন্ত পালটে দেয় এরা। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রেকর্ড কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ঘুসের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মুহুরি দুজনের নাম আমিও শুনেছি। তবে আমি এখানে নতুন, তাই অনেক কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব। তিনি আরও বলেন, আবেদন করতে ১২০ টাকার বেশি যদি ইমন নেয় তাহলে সেটা অন্যায়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য করছে টিসিবি
পুলিশের আচরণগত সমস্যা দূর করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে : বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি