বামনায় গৃহবধূকে কুপিয়ে যখম সাবেক স্বামীর বামনা প্রতিবেদক
বরগুনার বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামের মো. মামুন হোসেনের মেয়ে তুলি বেগম (১৯) নামে গৃহবধূকে ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী একই উপজেলার দক্ষিণ গোলাঘাটা গ্রামের মো. ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে জামাল হোসেনের(২৫) বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার (২৭ মার্চ) রাত ৯ টার দিকে।
গুরুতর আহত তুলিকে স্থানীয়রা প্রথমে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক ডা. হাসান জাকির অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠায়।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তুলির পরিবারের পক্ষ থেকে থেকে কেউ থানায় মামলা দায়ের করেনি বলে জানিয়েছেন বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহাবুদ্দিন।
আহত তুলির মা খাদিজা বেগম জানায়, সোমবার রাতে তুলি ঘরের সকলের জন্য রুটি তৈরীর কাজে রান্না ঘরে ব্যস্ত ছিলো। এমন সময় তুলির ডাকচিৎকারে ঘরের লোকজন গিয়ে তুলিকে রক্তাক্ত মাটিতে লুটিয়ে কাতরাতে দেখে।
তুলি কাতরাতে কাতরাতে তাদের সকলকে তার সাবেক স্বামী দক্ষিণ গোলাঘাটা গ্রামের মো. জামাল রান্নাঘরে ঢুকে তাকে রামদা দিয়ে এলোপাথারী কোপায় বলে জানায়। পরে এলাকাবাসী ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় তাকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।
তুলির মা আরো জানায়, প্রথমে তুলির সাথে পারিবারিক ভাবে জামালের বিয়ে হয়। তাদের দুজনের সাংসারিক জীবনে বুনিবনা না হলে প্রায় এক বছর পূর্বে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে তিন মাস পূর্বে মঠবাড়িয়া উপজেলার কুমিরমারা গ্রামের মো. এমাদুল হোসেনের ছেলে রুমনের সাথে তুলির পুনঃবিবাহ দেওয়া হয়। এই বিবাহের পরে তুলির সাবেক স্বামী মোবাইল ফোনে তুলিকে বিরক্ত করতো। এই ঘটনার জেড় ধরে তুলি বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসার খবর পেয়ে জামাল নৃশংস হামলা চালিয়েছে বলে তাঁর ধারনা।
এ ব্যাপারে বামনা থানার ওসি মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, আমরা এই নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে বামনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঘটনাস্থল তাৎক্ষনিক পরিদর্শন করেছি। রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনার দিন রাতেই হামলাকারীর বাড়ি ও তার আত্মীয়র বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। সাবেক স্বামী পলাতক থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |