Current Bangladesh Time
Sunday June ২১, ২০২৬ ৬:৪৫ PM
Barisal News
Latest News
Home » নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) » পিরোজপুর » নেছারাবাদে গার্ডার ছাড়াই সেতু ঢালাই, ভেঙে ফেলার আগেই ধসে পড়ল খালে
২৩ July ২০২৫ Wednesday ১০:৩৩:৩৮ PM
Print this E-mail this

নেছারাবাদে গার্ডার ছাড়াই সেতু ঢালাই, ভেঙে ফেলার আগেই ধসে পড়ল খালে


নেছারাবাদ ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করায় পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতু ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সে অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার সেতুটি ভাঙতে যান শ্রমিকেরা। কিন্তু ভাঙার কাজ শুরুর আগেই সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়।

পৌনে ৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ঠিকাদার ছিলেন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেডের কর্ণধার।

ঠিকাদার মিরাজুল পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের ছোট ভাই। দুই ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মিরাজুল আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। এতে তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়নাধীন একাধিক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়।

জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব জলাবাড়ি ইউনিয়নের ভাদুরা খালের ওপর সেতুটি ভেঙে ফেলতে যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। তবে সংস্থাটি কাজ শুরু করার আগেই গতকাল সন্ধ্যায় সেতুটি ধসে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা।

পিরোজপুর এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব জলাবাড়ি খ্রিষ্টানপাড়া থেকে মাদ্রা বাজার সড়কের ওপর একটি প্যাকেজে ২২ ও ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর মেসার্স ইফতি ইটিসিএলকে কার্যাদেশ দেয় পিরোজপুর এলজিইডি। যার চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ব্রিজ দুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মিরাজুল ইসলাম নিজে কাজ না করে একজন সাবঠিকাদার দিয়ে কাজ করাচ্ছিলেন। এ সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কার্যাদেশ না মানায় স্থানীয় লোকজন কাজে বাধা দেন।

পরে আরেক সাবঠিকাদার গত বছরের শেষদিকে গার্ডার ছাড়াই ভাদুরা খালের ওপরের সেতুটির ছাদ ঢালাই দেয়। এর কিছু দিন পরে ঢালাই দেওয়া অংশে ফাটল দেখা দেয়। তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির মুখে এলজিইডি তদন্ত করে সেতুটির ঢালাই দেওয়া অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেতু নির্মাণে অকল্পনীয় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে।

নির্মাণাধীন সেতুতে ফাটল ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবঠিকাদার খোকন মিয়া বলেন, শ্রমিকেরা ঢালাই শেষে চলে গেলে কে বা কারা সেন্টারিং খুলে ফেলায় সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন ঠিকাদার মিরাজুল ইসলাম অগ্রিম টাকা তুলে নেওয়ায় কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয় নেছারাবাদের উপজেলা প্রকৌশলী মো. রায়সুল ইসলাম বলেন, কাজ নিয়ম অনুযায়ী না করার কারণে পুরো স্লাব (ছাদ) ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণকাজ করতে হবে। গার্ডার নির্মাণ না করেই ছাদ ঢালাই দেওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই এটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মূল ঠিকাদারকে পাওয়া না যাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
পুলিশের ধাওয়ায় ড্রেনে পড়ে আ.লীগ নেতার মৃত্যু, স্বজনদের অভিযোগ
বরিশালে কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র শোডাউন
বরিশালে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প:লাল কালির নম্বরেই বছরের পর বছর পার
আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশালে চিরুনি অভিযান, ১৯ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com