বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার স্থানীয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি পানচাষ। উপজেলার বাকাল, বাশাইল, গৈলা ও রাজিহার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অসংখ্য পানের বরজ রয়েছে। দীর্ঘদিন লাভজনক এই পানচাষ এখন লোকসানের খাতে পরিণত হয়েছে।
পানের বাজারে হঠাৎ দরপতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো চাষী। তাদের অভিযোগ, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় শঙ্কার মধ্যে দিন কাটছে চাষীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সারা বছর পানচাষ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত থাকেন চাষীরা। তবে চলতি মৌসুমে এ চিত্রে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া।
পানচাষী আকবর মৃধা বলেন, ‘বরজ তৈরির বাঁশ, দড়ি, শ্রমিকের মজুরি, সার-কীটনাশকসহ সব উপকরণের দাম বহুগুণ বেড়েছে। অথচ বাজারে প্রতি পোন পান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। কয়েক মাস আগেও একই পরিমাণ পানের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না, বরং ক্ষতির পর ক্ষতিতে পড়ছেন পানচাষীরা।’
গৈলা ইউনিয়নের একাধিক পানচাষী জানান, ‘বরজে সারা বছর বিনিয়োগ করতে হয়; কিন্তু দামের এমন অবস্থা হলে ঋণ শোধ তো দূরের কথা, জীবনধারণই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায় জানান, ‘চাষীদের প্রাপ্য মূল্য নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও বাজার পরিস্থিতি নজরে রাখা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, ‘চাষীদের সহায়তা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)