Home » পাঠকের লেখা » নববর্ষের শুভেচ্ছা: বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ
১০ April ২০২৬ Friday ৫:৩৬:৫৫ PM
নববর্ষের শুভেচ্ছা: বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ
✍ লেখক: মাসুদরানাআকন
ঐতিহ্যেরসূচনাওহালখাতা
পহেলা বৈশাখ বাংলার মানুষের জন্য এক অনন্য উৎসব। এর সূচনা হয়েছিল মূলত কৃষিকাজ ও বছরের হিসাব মেলানোর প্রয়োজন থেকে। ব্যবসায়ীরা এ দিনে দেনা-পাওনা পরিশোধ করে পুরোনো খাতা বন্ধ করে নতুন খাতা খোলার প্রথা চালু করেন, যা ‘হালখাতা’ নামে পরিচিত।
উৎসবথেকেমিলনমেলা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পহেলা বৈশাখ আর শুধু হিসাবের দিনে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি রূপ নিয়েছে সর্বজনীন আনন্দ-উৎসবে। নাচ, গান, রঙিন সাজসজ্জা আর উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।
জাতীয়উৎসবহিসেবেবৈশাখ
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পহেলা বৈশাখ জাতীয় উৎসবের মর্যাদা পায়। সরকার এ দিনটি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। সারাদেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়। এটি এখন বাঙালির পরিচয়, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক।
পান্তা–ইলিশেরআধুনিকসংযোজন
পহেলা বৈশাখের সঙ্গে পান্তা-ইলিশ এখন অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। গ্রামীণ বাংলার পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছের সংযোজন তুলনামূলক আধুনিক, যা ১৯৮০-এর দশকে রমনা বটমূলে জনপ্রিয়তা পায়।
ঢাকার রমনা পার্ক, নবাবপুর, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এ দিনে পান্তা-ইলিশের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ঘরেও অনেক পরিবার এই আয়োজন করে থাকে।
পান্তা ভাতের টক স্বাদ ও ইলিশের তেলতেলে স্বাদের মিশ্রণ এই খাবারকে করে তুলেছে অনন্য। সহজ প্রস্তুত ও পুষ্টিগুণের কারণে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
ছায়ানটেরবর্ষবরণ
বাংলা নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ১৯৬৭ সালে ঢাকার রমনা বটমূলে এর সূচনা হয়। প্রতি বছর ভোরের আলো ফুটতেই গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।
মঙ্গলশোভাযাত্রা: সংস্কৃতিররঙিনবহিঃপ্রকাশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় বর্ণিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। নানা রঙের পোশাক, মুখোশ, রথ, পালকি ও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে এটি বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
বাংলাসনেরসূচনা
বাংলা নববর্ষের সূচনা সাধারণভাবে ধরা হয় ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে। সম্রাট আকবর কৃষিকাজ ও খাজনা আদায় সহজ করার জন্য হিজরি ও সৌর বছরের সমন্বয়ে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন, যা ‘বঙ্গাব্দ’ নামে পরিচিত।
লেখকপরিচিতি
মাসুদরানাআকন
বি.এ (অনার্স), এম.এ (মাস্টার্স)
একজন উদীয়মান কবি ও লেখক। তিনি সমাজ, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। ই-মেইল: masud24.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বৃক্ষ রোপণের বড় চ্যালেঞ্জ পরিচর্যা নিশ্চিত করা : তথ্যমন্ত্রী
বরিশালে বাড়ছেই ডেঙ্গু, চলতি মাসে আক্রান্ত ১৪৫০
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: অর্ধেক শিক্ষকের পদ ফাঁকা শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
আগুনে পোড়া ভবনে ৭.৪২ কোটি টাকার ‘ভুতুড়ে’ সংস্কার: বিসিসির অর্থ লোপাটের চাঞ্চল্যকর চিত্র