Home » ভোলা » মনপুরা » দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভোলায় প্রকল্প কর্মকর্তা বরখাস্ত
৯ July ২০২৬ Thursday ৮:৩৫:৪১ PM
দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভোলায় প্রকল্প কর্মকর্তা বরখাস্ত
মনপুরা ((ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার মনপুরায় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের উপজেলা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার ৭২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন ভোলা জেলা পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজাদুর রহমান।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মো. কামরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, লালমোহন উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে মো. কামরুজ্জামান বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দলের ঋণের অর্থ, সদস্যদের জমা দেওয়া কিস্তি এবং প্রকল্পের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
ইসলামপুর, দক্ষিণ তারাগঞ্জ, মঙ্গল সিকদার, রায়চাঁদ, মধ্য তারাগঞ্জ খানবাড়ি, রহিমপুর, ধলিগৌরনগর জেবলরাজ, বগিরচর, চরকালাচাঁদ, ভাঙ্গাপুল, দক্ষিণ বালুচর ও পূর্ব কিশোরগঞ্জ মৃধাপাড়া বিত্তিহীন মহিলা সমবায় সমিতিসহ একাধিক সমিতি থেকে মোট ৩৭ লাখ ২৮ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরবর্তীতে মনপুরায় যোগদানের পর মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দলের অর্থ থেকে আনুমানিক ৬১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পের প্রকৃত আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে আরও ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মনপুরায় ২৭ জনের নামে-বেনামে ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৬৫০ টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকারের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. কামরুজ্জামান। তার ভাষ্য, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকার ২০২৫ সালের জুন মাসে মনপুরা থেকে বদলি হয়ে যান। তার দায়িত্বাধীন এলাকায় এখনো বিপুল পরিমাণ ঋণ আদায় বাকি রয়েছে। সেই বিষয়কে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
মনপুরা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) মাহে আলম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে।
লালমোহন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) রীমা আক্তার জানান, লালমোহনে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফরসূচি চূড়ান্ত
বরিশাল স্কাউটের অনিয়ম নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান
বরিশালে মারজুকের মামলা বাণিজ্যে হয়রান মানুষ
১৩ জুলাই বরিশালে আসছেন তারেক রহমান, গৌরনদীতে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন ও সাংগঠনিক সভা
দক্ষিণাঞ্চলে বেহাল ১১ শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক, কোনোটাতে বাস করে সাপ