Home » কলাপাড়া » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড আগে দেখেনি গ্রামবাসী
২৫ July ২০২৬ Saturday ৪:১০:১৬ PM
কলাপাড়ায় এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড আগে দেখেনি গ্রামবাসী
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
সামান্য খাসজমি নিয়ে বিরোধ চলছিল দীর্ঘ বছর ধরে। সরকারি সম্পত্তি হলেও ছোট একটি ডোবার মালিকানা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। তবে এরপর যা ঘটে তা সিনেমার নির্মম দৃশ্যকেও হার মানিয়ে গেছে বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বয়োবৃদ্ধ হারিচ মিয়ার বাড়ির সীমানায় জবর দখলে বাধা দিলে শুরু হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন।
কখনো পানিতে চুবিয়ে, আবার কখনো কাদার মধ্যে পুঁতে রেখে চালানো হয় নির্যাতনের খড়গ। আর পরিবারের সব চেয়ে বয়স্ক মানুষের ওপর এমন পৈশাচিকতা দেখে তাকে বাঁচাতে ছুটে যান ঘরে থাকা নারী সদস্যরা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাদেরও। বিশেষভাবে তৈরি কাঠের গুঁড়ি আর লোহার রড দিয়ে তাদেরও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে বেঁধে রাখা হয় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে।
এরপর একে একে পরিবারের সব সদস্যকে বেধড়ক পিটিয়ে এবং কাদাপানিতে চুবিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে রাখা হয় খোলা মাঠে। পরে দ্বিতীয় দফায় মাটির মধ্যে মাথা গেড়ে দিয়ে নিষ্ঠুরতম নির্যাতন করা হয় বৃদ্ধ হারিচ আহমেদকে (৬৫)। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
সোমবার (১৯ জুলাই) উপজেলার ধুলাসার ইউপির নয়াকাটা গ্রামে খাস সম্পত্তির ছোট একটি ডোবার বিরোধ নিয়ে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত হারিচ আহম্মেদ ওই গ্রামের মৃত মজিবুর মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে (২১ জুলাই) মহিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ির সামনেই খাসজমিতে একটি ডোবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী খলিল মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে খলিলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি দল জমি দখল করতে আসে। এ সময় তিনি বাড়িতে না থাকায় তার বাবা হারেচ তাদের বাধা দেন।
পরে খলিল, সলেমান, রবিউল, মিজানুরসহ আরও অনেকে তার বাবাকে ধরে হাঁটু সমান কাদার মধ্যে গেড়ে নির্যাতন চালায় এবং পিটিয়ে হাত-পায়ে জখম করে। এ সময় তাকে বাঁচাতে ঘরের গৃহবধূ ও নাতনিরা এগিয়ে গেলে তাদের পিটিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে।
পরে তার বৃদ্ধ বাবাকে পানিতে চুবিয়ে মৃত ভেবে মাঠে ফেলে রাখে। কিন্তু তাকেসহ আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি খুনিরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা বাড়িতেই আহত নারী-পুরুষদের অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। পরে স্থানীয়রা ফাঁক ফোকর দিয়ে গুরুতর আহত তার বাবা ও চার নারীকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও চিকিৎসা নিতে দেয়নি খুনিরা। পরে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে বরিশাল নেওয়ার আগেই বাবার মৃত্যু হয়।
হামলায় গুরুতর আহত সুবর্ণা জানান, তার দাদুর মাথা মাটির মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে যখন মারছিল তখন তারা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের পিটিয়ে বেঁধে রেখে দাদুকে মেরেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, এমন ঘটনা এর আগে এই এলাকার মানুষ দেখেনি। তিনি বলেন, ইউপি সদস্য জসিম খন্দকারের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তার হুকুমেই এই হত্যা। এতে এলাকার প্রতিটি মানুষই আতংকিত।
মহিপুর থানার ওসি মো. শামিম বলেন, এ ঘটনায় ২১ জুলাই একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আমরা আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: অর্ধেক শিক্ষকের পদ ফাঁকা শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
আগুনে পোড়া ভবনে ৭.৪২ কোটি টাকার ‘ভুতুড়ে’ সংস্কার: বিসিসির অর্থ লোপাটের চাঞ্চল্যকর চিত্র
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪১ হাজার কৃষক, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি আমন বীজতলায়
বরিশাল বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই নভোথিয়েটারের ১৩ কোটি টাকা উধাও