সরকারি পাবলিক লাইব্রেরি ভবন ‘বেচে দিলেন’ শিক্ষক মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বরগুনার বামনা উপজেলার সরকারি পাবলিক লাইব্রেরি কাম-অডিটরিয়ামের পরিত্যক্ত ভবনটি বিক্রি করে দিয়েছেন সারওয়ারজান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক। সারওয়ারজান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে অবস্থিত ওই লাইব্রেরি ভবনটি এখন প্রকাশ্যে ভাঙার কাজ চললেও প্রশাসন নির্বিকার। ব
দ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পাকা ভবনটি বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার রামনা গ্রামের আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একদল ভাঙ্গাড়ি শ্রমিক গত সপ্তাহ থেকে পাবলিক লাইব্রেরি কাম অডিটরিয়াম ভবনটি ভাঙার কাজ করছে। সরকারি ওই ভবনের ইট, রডসহ মূল্যবান আসবাবপত্র স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বামনা সারওয়ারজান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সম্মুখ চত্বরে খুলনা বিভাগীয় উন্নয়ন বোর্ডের আর্থিক সহায়তায় বামনা উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি কাম-অডিটরিয়াম ভবনটি ১৯৮৩ সালে নির্মাণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবনটিতে একটি মিলনায়তন ও ছিল, সেখানে এলাকার বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতো। পরে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে সেখানে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল চালু করা হয়। কয়েক মাস আগে শিক্ষক হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে একটি সুবিদাবাদী চক্র ওই কিন্ডারগার্টেন স্কুলটি সরিয়ে দেয়। পরে গত সোমবার থেকে সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি বিক্রি করে ভাঙার কাজ শুরু করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক জানান, সরকারি পাবলিক লাইব্রেরি কাম-অডিটরিয়াম ভবনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে স্থানান্তরিত করার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করেছিল। স্থানান্তরের প্রক্রিয়া বিলম্ব হওয়ায় বামনা সারওয়ারজান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৮৫ হাজার টাকায় এটি রামনা গ্রামের আফজাল হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেন।
ভবনটির ক্রেতা আফজাল হোসেন আমাদের বরিশাল ডটকম’কে জানান, তিনি সারওয়ারজান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদের কাছ থেকে ভবনটি ৮৫ হাজার টাকায় কিনেছেন।
এ ব্যাপারে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ আমাদের বরিশাল ডটকম’কে বলেন, বিভিন্ন সময় ওই ভবনের ইট মাথায় পড়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাথা ফেটেছে। তাই ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। সরকারি অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন জবাব দেননি।
বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, পাবলিক লাইব্রেরির ভবন ভাঙার ব্যাপারে জানা নেই। সরেজমিনে দেখে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |