পায়নি বিপদ সংকেতের খবর: আশ্রয়কেন্দ্রে ঝুলেছে তালা মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বরগুনা জেলা জুড়ে জারি করে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু বামনা উপজেলার মানুষ জানেন না এ বিপদ সংকেতের বিষয়ে। উপজেলার আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার কথা বলা হলেও সরেজমিনে অনুসন্ধানে বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন দেখা যায়।
এসব এলাকার সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে ঝুলছে তালা। অন্যদিকে বামনা উপজেলায় দুর্যোগের সংকেত না পৌঁছালেও বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার জেলা প্রশাসক ড. মুহা. বশিরুল আলম।
বামনা উপজেলায় রেড ক্রিসেন্ট, স্থানীয় দুর্যোগ কমিটি বা কোনো সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে যারা এর আঘাতের প্রথম শিকার হবেন সেই প্রান্তিক উপকূলের মানুষ জানেন না তাদের ওপর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে।
বামনা উপজেলার কোথাও মাইকিং করে সতর্কতার কথা জানানো হয়নি। এমন কি নিরাপদ আশ্রয়ে যেতেও বলা হয়নি। তাই বামনা উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসেনি। কেউ দুর্যোগের সংকেত না পাওয়া আবার কেউ পৈতৃক ভিটেমাটির মায়ায় দুর্যোগে ঝুঁকি নিয়েই বসতবাড়িতে রাত্রিযাপন করেছে।
বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বরগুনায় প্রস্তুত রয়েছে সকল আশ্রয় কেন্দ্র। জরুরি সহায়তার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এলাকায় মাইকিং করার কথা দাবি করলেও বামনা উপজেলার একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা মাইকিং শোনেননি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার জেলা প্রশাসক ড. মুহা. বশিরুল আলম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিপদ সংকেতের সঙ্গে সংগতি রেখে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাদ্য ও নগদ অর্থ রয়েছে। এছাড়াও সব মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বরগুনায় সরকারি, বে-সরকারিভাবে প্রায় ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় উপজেলার আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত ছিলনা। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক হওয়ার করার কথা থাকলে এখানে কোন বৈঠক হয়নি। মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার জন্য মাইকিং করা হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |