বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠানে ইউএনও’র ভুড়িভোজ! মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বরগুনার বামনা উপজেলার খোলপটুয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু জাফরের মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী আমানুতুল্লাহর বাল্য বিয়ের অনুষ্ঠানে বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মাদ মনির হোসেন হাওলাদার ভুড়িভোজ করেন।
একই সাথে রামনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ওই অনুষ্ঠানে ভুড়িভোজ করেন। তবে ব্যাল্য বিয়ে হচ্ছে দেখে ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান সেখান থেকে না খেয়ে ফিরে যান বলে তিনি দাবি করেন।
রবিবার (২৯ মে) দুপুরে খোলপটুয়া আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বামনা উপজেলার খোলপটুয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু জাফমেয়ে এবং ওই মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী আমানুতুল্লাহকে (১৪) উপজেলার উত্তর গুদিঘাটা গ্রামের আবুল হাশেম হাওলাদারের পুত্র এবং চলাভাঙ্গা দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মো. আবু সালেহ’র সাথে এক মাস পূর্বে বিবাহ দেয়া হয়।
আজ রবিবার দুপুরে খোলপটুয়া আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আর বাল্য বিবাহের ওই ভুড়ি ভোজে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ মনির হোসেন হাওলাদার, ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান, রামনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, বিবাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা মো. ইলিয়াস।
এ ব্যাপারে রামনা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আঃ খালেক জমাদ্দার বলেন, অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু জাফরের মেয়ে বিবাহ অনুষ্ঠানে আমাকেও দাওয়াত করে ছিলেন। কিন্তু বাল্য বিবাহ হচ্ছে জেনে আমি ওই বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করিনি।
এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ মনির হোসেন হাওলাদার জানান, আমরা দুপুরে সেখানে ভুড়ি ভোজ করেছি, কিন্তু সেটা আমাদের মাদরাসা কর্তৃপক্ষ খাইয়েছে।
অন্যদিকে, ডৌয়াতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাদরাসায় এডিপির চার লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সে কারণে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ ভুড়ি ভোজের আয়োজন করে।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |